
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, সব ধরনের মানসিক ক্লান্তিকে ‘মানসিক বার্নআউট’ বলা যবে না। ‘মানসিক বার্নআউট’ হচ্ছে এমন এক মানসিক ক্লান্তি, যা জীবনের সঙ্গে নিজের চাওয়া-পাওয়ার অসামঞ্জস্যের ফল। আয়-রোজগার, ক্যারিয়ার আর সামাজিক প্রত্যাশার ভারে আমরা কখন যে নিজের সত্যিকারের ইচ্ছাকে হারিয়ে ফেলি, তা টেরই পাই না। কখন বুঝবেন আপনি ভয়ংকর বার্নআউটে ভুগছেন। মনোবিজ্ঞানীরা এর কিছু লক্ষণ প্রকাশ করেছেন।

অনেক মানুষ বাইরে থেকে সফল মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। ব্যস্ত সময়সূচি, ভালো বেতন বা সামাজিক স্বীকৃতি সব সময় মানসিক শান্তি নিশ্চিত করে না।
সাধারণভাবে আমরা মনে করি অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকেই বার্নআউট আসে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জীবনযাপনও গভীর ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সমাজের চোখে সফল দেখানোর জন্য অনেকে এমন জীবন বেছে নেন, যা আসলে তাদের নিজের পছন্দ নয়। বড় বাড়ি, দামি গাড়ি বা মর্যাদাপূর্ণ জীবনধারা ধরে রাখতে গিয়ে বাড়তে থাকে মানসিক চাপ।
অনেক অভিভাবক সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সন্তানের জন্য ব্যয়বহুল স্কুল বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো। এটি কি সত্যিই সন্তানের প্রয়োজন, নাকি সামাজিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা?

বার্নআউট শুধু শক্তি কমিয়ে দেয় না, এটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে পারে। অপছন্দের চাকরিতে টিকে থাকা বা অতিরিক্ত খরচের চাপ দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ বাড়ায়।
নিজের ভালো লাগার কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করলেও সব সময় ক্লান্তি আসে না। বরং উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ অনেক সময় মানুষকে উজ্জীবিত রাখে।

যদি বিশ্রামের পরও ক্লান্ত লাগে, নিজের খরচ দেখে অপরাধবোধ হয় বা জীবনযাত্রা উপভোগ করতে না পারেন। তাহলে সেটি হতে পারে জীবনের সঙ্গে নিজের চাওয়ার অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত।
অনেকেই মনে করেন জীবন বদলাতে চাওয়া মানে হেরে যাওয়া। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের প্রয়োজন বুঝে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসলে ব্যক্তিগত বিকাশের লক্ষণ।

ক্যারিয়ার বদল, বিরতি নেওয়া বা নতুন জীবন শুরু করার আগে মানসিক ও পারিবারিক সহায়তা প্রয়োজন। পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষদের সহযোগিতা এই পরিবর্তনকে সহজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি তহবিল তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের প্রয়োজনীয় খরচ জমিয়ে রাখলে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

কাজ থেকে বিরতি নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বিশ্রাম, নতুন কিছু শেখা, নিজের শখে সময় দেওয়া বা ধীর গতির জীবন বেছে নেওয়াও মানসিক সুস্থতার অংশ।
দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো। আপনি যে জীবন বেছে নিয়েছেন, সেটি সত্যিই আপনাকে সুখী করছে কি না। কারণ অর্থ, সাফল্য বা সামাজিক স্বীকৃতির চেয়েও মানসিক শান্তি অনেক বেশি মূল্যবান।
ছবি: এআই