
খাবারের অপচয় কমাতে তাই শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার করা যথেষ্ট নয়। কেনা খাবার কীভাবে এবং কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, আলু ও পেঁয়াজ পাশাপাশি রাখার বদলে আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আলু ও পেঁয়াজ দুটিই শুকনো খাবার হলেও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের আচরণ এক নয়। পেঁয়াজ থেকে ইথিলিন গ্যাস ও আর্দ্রতা নির্গত হতে পারে। কাছাকাছি থাকা আলুর ক্ষেত্রে এই পরিবেশ অঙ্কুর গজানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
ফলে আলু দ্রুত অঙ্কুরিত হতে পারে, নরম হয়ে যেতে পারে এবং সংরক্ষণের সময় কমে যেতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত আর্দ্রতা পেঁয়াজেও পচন ধরার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, আলু ও পেঁয়াজ পাশাপাশি রাখালে দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার একটি হলো আলু সবুজ হয়ে যাওয়া। আলো ও অনুকূল পরিবেশের প্রভাবে আলুতে ক্লোরোফিল তৈরি হয়ে সবুজ রং দেখা দিতে পারে। একই সময়ে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামের প্রাকৃতিক যৌগের মাত্রাও বাড়তে পারে, যার মধ্যে সোলানিন ও চাকোনিন রয়েছে।
এ ধরনের আলু বেশি পরিমাণে খেলে বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, বমি বা ডায়রিয়ার মতো অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই আলুতে সবুজ অংশ বেশি হলে, পচন ধরলে বা স্বাদ অস্বাভাবিক তিতা হলে সেটি খাওয়ার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।
অর্থাৎ আলুতে অঙ্কুর গজানো দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু সবুজ হয়ে যাওয়া, পচে যাওয়া বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা করাও ঠিক নয়।

পেঁয়াজেও একইভাবে সংরক্ষণের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচলের অভাবে পেঁয়াজ নরম হয়ে যেতে পারে এবং পচন ধরতে পারে।
পচা, ছত্রাকযুক্ত বা দুর্গন্ধযুক্ত পেঁয়াজ খাবারে ব্যবহার না করাই নিরাপদ। বাইরে থেকে সামান্য নষ্ট মনে হলেও ভেতরে পচন কতটা ছড়িয়েছে, তা সবসময় বোঝা যায় না।

সবচেয়ে সহজ নিয়ম, আলু ও পেঁয়াজ আলাদা করে রাখুন।
পেঁয়াজ এমন জায়গায় রাখা ভালো, যেখানে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা নেই। আলুর জন্যও দরকার শুষ্ক, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গা। দুটিকে একই ঝুড়িতে রাখার বদলে আলাদা ঝুড়ি ও আলাদা সংরক্ষণস্থলে রাখতে হবে।
আলু বা পেঁয়াজ কেনার পর নিয়মিত বাছাই করা জরুরি। কোনোটি নরম হয়ে গেছে, পচছে বা ছত্রাক ধরেছে কি না, তা খেয়াল করুন। নষ্ট হওয়া খাবার দ্রুত আলাদা করে ফেললে পাশের ভালো খাবারও রক্ষা করা যায়।

শুধু ফ্রিজে রাখলেই আলু-পেঁয়াজ সংরক্ষণের সব সমস্যা মিটে যায় না। বরং কোন খাবার কোথায়, কী তাপমাত্রায় এবং কী পরিবেশে রাখা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আলুর ক্ষেত্রে আলো থেকে দূরে, শুষ্ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দরকার শুকনো পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল।

খাবার অপচয় কমানোর আরেকটি কার্যকর উপায় হলো প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার করা। পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আলু-পেঁয়াজ কিনে দীর্ঘদিন রেখে দিলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
যেসব আলু বা পেঁয়াজ আগে ব্যবহার করা দরকার, সেগুলো আলাদা করে রাখুন। নিয়মিত সংরক্ষিত খাবার পরীক্ষা করুন এবং যেগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার পথে, সেগুলো আগে রান্নায় ব্যবহার করুন।
আলু ও পেঁয়াজ একসঙ্গে রাখার অভ্যাস হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু সঠিক সংরক্ষণ না করলে এই ছোট অভ্যাসই খাবারের অপচয় বাড়াতে পারে এবং নষ্ট বা অনিরাপদ খাবার স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: পেকজেলসডটকম