
আমরা ছোট-বড় সবাই ফুঁ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মজার কাজ করে থাকি। অনেক সুখকর ঘটনা এর সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন জন্মদিনের মোমবাতি নেভাতে ফুঁ, রঙিন বেলুন ফোলাতে ফুঁ, আবার গরমের প্রশান্তিতে ফুঁ। তাহলে বোঝা যায়, অনেক প্রশান্তির বাহক হচ্ছে ফুঁ। কিন্তু আমরা কি জানি, এ প্রশান্তির ‘ফুঁ’ আর্ট থেরাপির একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত? বিশেষ করে যেসব শিশু ও কিশোর সাধারণ রিলাক্সেশন বা শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন করতে আগ্রহ বোধ করে না, তাদের জন্য ফুঁ আর্ট থেরাপি অনেক বেশি কার্যকর ও আনন্দদায়ক।
বড়রা, এমনকি শিশুরা বিমূর্ত ছবি আঁকার জন্য অনেক সময় তাদের নিজস্ব শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবহার করে। আর তা যে শিল্পকর্মে রূপান্তরিত হয়, তাকেই ফুঁ আর্ট বলে। টডলার ও প্রি-স্কুলারদের জন্য এটিকে একটি সহজ ছবি আঁকার মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়।
ফুঁ আর্ট করার সঙ্গে সঙ্গে গভীর শ্বাস নিতে হয় এবং ধীরে ধীরে ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে নিশ্বাস ছাড়ায় শরীর ও মনে। ফলে একধরনের শান্ত প্রভাব ফেলতে পারে। গভীর শ্বাস শিশু, বড়—সবার শরীরকেই একটি বিশ্রামের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, যেখানে তাদের পেশি শিথিল হয় এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে। যখন তারা গভীর শ্বাস নেয়, তখন তাদের পেট প্রসারিত হয় এবং আবার যখন তারা শ্বাস ছাড়ে, তখন তাদের পেট সংকুচিত হয়। দ্রুত শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মাথা হালকা অনুভব করতে থাকে।
ফুঁ আট মুখের পেশি বিকাশে সাহায্য করে। আর এ বিকাশের মধ্যে আছে চোয়াল, জিহ্বা, গাল, ঠোঁটসহ আরও অন্যান্য কিছু, যেমন নিজের প্রতি সচেতনতা, শক্তি, সমন্বয়, নড়াচড়া, এমনকি মুখের সহনশীলতাও অন্তর্ভুক্ত। তবে আমরা মূলত এ অংশে ফুঁ আর্টের মাধ্যমে কীভাবে নিজের অস্থিরতা ও প্রশান্তি আনব, তাই তুলে ধরা হবে, যা আর্ট থেরাপির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

যাদের জন্য: চার বছর বয়সের ঊর্ধ্বে যেকোনো ব্যক্তি
উপকরণ:
• তরল জলরঙের পেইন্ট বা পানিযুক্ত অ্যাক্রিলিক পেইন্ট
• পেইন্ট প্যালেট বা একাধিক সিরামিক বাটি
• আর্ট পেপার
• ফুঁ দেওয়ার পাইপ বা স্ট্র
• মেডিসিন ড্রপার

• প্রথমে ফুঁ আর্ট করার জায়গা ও উপকরণ প্রস্তুত করতে হবে।
• আর্ট পেপারের যে পাশে আঁকা হবে, সে পাশে মেডিসিন ড্রপার দিয়ে কালার প্যালেট বা তরল রং রাখা সিরামিক বাটি থেকে পছন্দের ২-৪ ফোঁটা রংকাগজের ওপর ফেলতে হবে।
• এবার বুকভরে নিশ্বাস নিয়ে পাইপ বা স্ট্র দিয়ে আর্ট পেপারের ওপর রঙের ফোঁটায় ধীরে ধীরে ফুঁ দিতে হবে।
• তারপর দেখা যাবে, ফুঁ দেওয়ার ফলে রংকাগজের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অংশে মনে রাখতে হবে, আর্ট পেপারে রঙের ফোঁটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্র দিয়ে ফুঁ দিতে হবে, নয়তো কাগজ রং শুষে নেবে। ফলে ফুঁ দিলেও কাজ হবে না।
• ঠিক একই রকমভাবে গভীর শ্বাস নিয়ে আর্ট পেপারে মনের মতো বিভিন্ন রঙের ফোঁটা যোগ করে ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে পুরো আর্ট পেপারটি বিভিন্ন আকারের রং করতে হবে।
• কাগজের ওপর ফুঁ দিয়ে রং করার পর কেমন অনুভব করছি, তা জানার জন্য চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভেবে নিতে হবে। আঁকা রঙিন আর্ট পেপারটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

যদি এমন ফুঁ আর্ট কৌশল কারও জানা থাকে, তাহলে তার নিজের বা পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্য যেমন প্রশান্তির, তেমনি একধরনের আনন্দের মাধ্যমও হতে পারে।
তাই আসুন, সবাই মিলে ব্যক্তিজীবনে ফুঁ আর্ট কৌশল প্রয়োগ করি এবং রোমাঞ্চকর নতুন অভিজ্ঞতায় নিজেকে রোমাঞ্চিত করি।
ছবি: পেকজেলসডটকম