আজ বিশ্ব ঘুম দিবস, শুধুমাত্র ঠিকমতো না ঘুমিয়ে আপনি আছেন ৭টি মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুমকে গুরুত্ব দেন না। রাত জেগে কাজ, মোবাইল ব্যবহার, মানসিক চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেরই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। অথচ চিকিৎসক ও গবেষকেরা বলছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা শুধু ক্লান্তি নয়, বরং শরীরে নানা মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাম্প্রতিক বহু গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আজ ১৩ মার্চ বিশ্ব ঘুম দিবস। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব নিয়ম মানার পরেও শুধুমাত্র ঘুমের অভাবেই আপনি থাকতে পারেন ৭টি মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন হৃদরোগ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বাড়ে। এর ফলে ধমনী শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি
যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি

ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা

ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ইনসুলিন ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিজ্ঞাপন

স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি

যারা নিয়মিত কম ঘুমান তাদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঘ্রেলিন বেড়ে যায় এবং তৃপ্তির হরমোন লেপটিন কমে যায়। ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, বিশেষ করে চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে।

যারা নিয়মিত কম ঘুমান তাদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা বেশি দেখা যায়
যারা নিয়মিত কম ঘুমান তাদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা বেশি দেখা যায়

মানসিক রোগের ঝুঁকি

ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে উদ্বেগ, হতাশা (ডিপ্রেশন) এবং মেজাজের সমস্যা বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কম ঘুমান তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন ও উদ্বেগজনিত সমস্যার হার বেশি।

ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলে
ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলে


স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সমস্যা

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনভর শেখা তথ্যকে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং স্মৃতিশক্তি কমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়

ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ফলে সর্দি, জ্বর বা অন্যান্য সংক্রমণ সহজেই হতে পারে।

ঘুম না হলে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে
ঘুম না হলে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে


ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত ঘুম বা রাত জাগা শরীরের জৈবিক ঘড়িকে (সার্কাডিয়ান রিদম) ব্যাহত করে। এতে কিছু হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে ঘুমের অভাব
দীর্ঘমেয়াদে কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে ঘুমের অভাব

কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই সময় আরও বেশি। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর অভ্যাস ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ঘুমের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে
ঘুমের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে

সব মিলিয়ে বলা যায়, পর্যাপ্ত ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, বরং সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। তাই ব্যস্ততার মাঝেও ভালো ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ আজকের সামান্য ঘুমের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: হেলথলাইন

ছবি এআই ও পেকজেলস

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০: ৩০
বিজ্ঞাপন