
ওটস বা ওটমিলকে সারা বিশ্বেই অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়, এটি কোলেস্টেরল কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। কিন্তু অনেকেই প্রতিদিন সকালে এক বাটি ওটস খাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করেন। এমনকি কারও কারও ওজনও বেড়ে যেতে পারে।
আসলে ওটস নিজে একটি "ফাঁকা ক্যানভাসের" মতো। সঠিকভাবে তৈরি করলে এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হতে পারে, কিন্তু কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এটি স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পানিতে রান্না করা সাধারণ এক বাটি ওটসে ফাইবারের সঙ্গে শর্করা থাকে, কিন্তু প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খুব কম থাকে। ফলে শরীর এটি দ্রুত হজম করে ফেলে। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার নেমে যায়। ফলস্বরূপ অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা লাগে।
সমাধান
ওটসের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করুন। যেমন—
পানি ঝরানো টকদই
দুধ
বাদাম বা বীজ
চিয়া সিড
ফ্ল্যাক্সসিড
বাদামের মাখন
এগুলো হজম ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
বাজারের ফ্লেভারযুক্ত বা ইনস্ট্যান্ট ওটস দ্রুত তৈরি করা গেলেও এগুলো অনেক বেশি প্রক্রিয়াজাত। এতে প্রায়ই অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদ ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

সমাধান
ইনস্ট্যান্ট ওটসের বদলে খান
স্টিল-কাট ওটস
ওল্ড-ফ্যাশনড রোলড ওটস
এগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।

অনেকে ওটসের সঙ্গে প্রচুর মধু, ম্যাপল সিরাপ, ব্রাউন সুগার বা প্রক্রিয়াজাত শুকনো ফল যোগ করেন। এতে স্বাস্থ্যকর খাবারটি প্রায় ডেজার্টে পরিণত হয়।

সমাধান
প্রাকৃতিক উপায়ে মিষ্টি করুন এই উপকরণগুলো যোগ করে
কলা
তাজা ফল
দারুচিনি গুঁড়া
ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট
ওটসেও ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটে আছে। মেপে না খেলে সহজেই প্রয়োজনের দ্বিগুণ খাওয়া হয়ে যেতে পারে।
সমাধান
সাধারণত ওটসের একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশন হলো—
আধা কাপ শুকনা ওটস
অথবা
১ কাপ রান্না করা ওটস

ওটস স্বাভাবিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত হলেও অনেক সময় এমন কারখানায় প্রক্রিয়াজাত হয় যেখানে গম, বার্লি বা রাইও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে গ্লুটেন দূষণ হতে পারে, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ওটস খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ফাঁপা, মাথা ভার লাগা বা অস্বস্তি হতে পারে।
সমাধান:
সার্টিফায়েড গ্লুটেন ফ্রি লেখা ওটস কিনুন।
ওটস খাওয়ার পর শরীর কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে তা লক্ষ্য করুন।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ওটস রান্নার সময় সামান্য লবণ না দিলে স্বাদ অনেকটাই ফিকে লাগে। এক চিমটি লবণ ওটসের স্বাভাবিক সুগন্ধি স্বাদকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।

ওটস সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর একটি খাদ্য। তবে এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কীভাবে এটি প্রস্তুত করছেন তার ওপর। সঠিক পরিমাণে খাওয়া, কম প্রক্রিয়াজাত ওটস বেছে নেওয়া এবং এর সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করলেই ওটস সত্যিকার অর্থে একটি আদর্শ সকালের নাশতায় পরিণত হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: এ আই ও পেকজেলস