জেনে নিন, কেন ইফতারের পর এত ক্লান্ত লাগে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

পবিত্র রমজানে ইফতারের পর ক্লান্তি অনুভব করার প্রধান কারণ হলো, আমাদের শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের পরিবর্তন। সারা দিন রোজা রাখার সময় শরীর এনার্জির জন্য গ্লুকোজের বদলে ফ্যাট বার্ন করতে থাকে, যাকে ‘কিটোসিস’ বলা হয়। ইফতারে হঠাৎ কার্বোহাইড্রেট–সমৃদ্ধ খাবার (যেমন খেজুর, ভাত ও রুটি) খাওয়ার পর ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

এই ইনসুলিন সুগারকে সেলের ভেতরে ঢুকিয়ে এনার্জি তৈরি করতে সাহায্য করে, কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত ইনসুলিন রিলিজের কারণে ব্লাড সুগার আবার দ্রুত নেমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)। এ জন্য অবসাদ লাগে। এ ছাড়া ভারী খাবার হজম করতে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে বেশি ব্লাড ফ্লো যায়, যার কারণে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গে অক্সিজেনের সরবরাহ সাময়িক কমে যায়। এটিকে পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল সোমনোলেন্স বা ফুড কোমা বলে। সারা দিন পানিশূন্যতা থেকেও এনার্জি লেভেল ড্রপ করে, যা ইফতারে পানি পান করলেও তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ হয় না।

বিজ্ঞাপন

ইফতারে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। আপনি ক্ষুধার্ত ঠিক আছে, তবে পেটকেও সময় দিতে হবে হজম করতে। একসঙ্গে সব খাবার না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর খাবার খেতে হবে। এতে শরীর খুব একটা ক্লান্ত হবে না। খাবার হজমের জন্যও পর্যাপ্ত সময় পাবে।

ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি খেয়ে অল্প কিছুক্ষণ পর বাকি খাবার খাওয়া উচিত। ততক্ষণে পেটও খাবার হজমের জন্য তৈরি হবে। এতে শরীর ক্লান্ত হবে না। ইফতারের সময় সচরাচর তাড়াহুড়া করেই আমরা খাবার খেয়ে থাকি। এতে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা শরীরে ক্লান্তি বাড়ায়। ধীরেসুস্থে খাবার খেলে পাচনতন্ত্র ভালোভাবে কাজ করে এবং হজমে সহায়তা হয়। তাই ইফতারে আমাদের ধীরেসুস্থে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

যেমন ঝটপট তিন বা চার গ্লাস পানি, জুস ও শরবত খেয়ে ফেলা উচিত নয়। কারণ, সাহ্‌রি থেকে ইফতার পর্যন্ত শরীর যেভাবে ফ্লুইড ব্যালান্স (পানির ও লবণের ভারসাম্য) রক্ষা করে। এই ঝটপট তিন বা চার গ্লাস পানীয় পান শরীরের ফ্লুইড ব্যালান্স নষ্ট করে দিতে পারে। আর শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ডাইলুশনাল হাইপোনাট্রেমিয়া তৈরি হলো, যার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

তাই ইফতারে আমাদের ধীরেসুস্থে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এ জন্য ইফতারের পরপরই শুয়ে–বসে না থেকে বরং স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করা উচিত। আবার শরীর কিন্তু মনের কথা শুনে। তাই নিজেকে ক্লান্ত ভাববেন না; বরং ইফতারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে সহজেই ক্লান্তি দূর হবে। সেই সঙ্গে হজমও ভালো হবে।

ছবি: পেকজেলসডটকম ও এআই

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১: ৫৪
বিজ্ঞাপন