
ফিনল্যান্ডের টাম্পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০০-র বেশি হৃদরোগীর ধমনীতে জমে থাকা ব্লকেজ (প্ল্যাক) পরীক্ষা করে দেখেন যে, এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্ল্যাকে মুখের ব্যাকটেরিয়ার জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উদ্বগজনক মিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ভিরিডান্স স্ট্রেপটোকক্কাই নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া এখানে গভীরভাবে বসে গিয়ে বায়োফিল্ম তৈরি করেছে। আর এই ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত সঠিকভাবে দাঁত মাজেন না আর ওরাল হাইজিনের প্রতি উদাসীন মানুষের মুখে অহরহই জমে থাকে।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক পিরক্কা কারহুনেন বলেন, “এই ব্যাকটেরিয়াগুলো এমন জায়গায় লুকিয়ে থাকে, যেখানে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহজে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু সুযোগ পেলেই এগুলো প্রদাহ তৈরি করে ধমনীর প্ল্যাক ফাটিয়ে দেয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক।”

কেন বিপজ্জনক
ধমনীর ভেতরের প্ল্যাক ফেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধে। এতে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। গবেষকরা আরও জানান, সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া নিস্ক্রিয় থাকে। কিন্তু অন্য কোনো সংক্রমণ, অস্বাস্থ্যকর খাবার বা মানসিক চাপ এগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে।
আগের গবেষণার সাথেও মিলে যাচ্ছে
এর আগেও ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, স্ট্রোক রোগীদের রক্ত জমাটে (থ্রম্বাস) একই ধরনের মুখের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মাড়ির রোগ ও হৃদরোগের মধ্যে সম্পর্ক থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন। এই নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করল।

চিকিৎসকদের পরামর্শ
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁতের যত্ন নেওয়া শুধু দাঁত ও মাড়ি রক্ষা করে না, বরং হৃদপিণ্ডের সুস্থতার সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার ও মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
সহজ করে বললে প্রতিদিনের দাঁতের যত্ন হয়তো হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে আপনার জীবন বাঁচাতেও পারে।
সূত্র: কারহুনেন পি এট আল (২০২৫), ওরাল স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইন করোনারি আথেরোমাস অ্যান্ড দেয়ার অ্যাসোসিয়েশন উইথ সাডেন ডেথ, জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
হিরো ইমেজ: জেমিনি এআই
ছবি: পেকজেলস