
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ‘ডেভিড’ প্রোটিন বারকে ঘিরে একটি মামলার পর আলোচনায় আসে খাবারের পুষ্টিগুণের লেবেল কতটা নির্ভুল। অভিযোগ উঠেছিল, লেবেলে যা উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে সেই প্রোটিন বারে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। যদিও পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তবুও বিষয়টি খাদ্যপণ্যের লেবেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের প্যাকেটে লেখা তথ্যকে একদম নিখুঁত হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ বিভিন্ন দেশে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কিছু পার্থক্যের অনুমতি দিয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্যাকেটজাত খাবারে উল্লেখিত ক্যালরি, ফ্যাট, চিনি বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাস্তবে কিছুটা বেশি হতে পারে। আবার প্রোটিন, ফাইবার বা ভিটামিনের পরিমাণ কখনও লেবেলের তুলনায় কমও থাকতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করা আসলে খুব সহজ কাজ নয়। একই উপকরণের ভিন্ন ব্যাচে পুষ্টিগুণে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। রান্না বা প্রসেসিংয়ের সময়ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে। ফলে প্রতিটি পণ্যে শতভাগ একই মাত্রা ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব।
তবে এই পার্থক্য সবার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা সাধারণভাবে ঘরোয়া ও কম প্রসেসড খাবার খান, তাদের জন্য মাঝেমধ্যে কোনো প্যাকেটজাত খাবারে কিছু অতিরিক্ত ক্যালরি থাকা খুব বড় সমস্যা তৈরি নাও করতে পারে।

কিন্তু যারা নিয়মিত প্রোটিন বার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা প্রস্তুত খাবারের ওপর নির্ভর করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ছোট ছোট পার্থক্য যোগ হয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো বা নির্দিষ্ট খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খাবারের লেবেলকে নির্ভুল সংখ্যার বদলে একটি ধারণা হিসেবে দেখাই ভালো। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু ক্যালরির সংখ্যা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে খাবারের সামগ্রিক গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও কম প্রসেসড খাবারকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বেশি রাখলে মাঝে মাঝে কিছু প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় না।
অর্থাৎ, প্যাকেটের গায়ে লেখা সংখ্যাগুলো সহায়ক হলেও সেটিই শেষ সত্য নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি এখনও রয়ে গেছে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্যের মধ্যেই।
সূত্র: সেলফডটকম ও এফ ডি এ
ছবি: এআই