
ফিটনেস প্রশিক্ষক অ্যালেক্স-এর মতে, দিনের বিভিন্ন সময়ে ওজন মাপলে তা সঠিক চিত্র দেয় না। বরং কিছু নির্দিষ্ট সময় এড়িয়ে চলাই ভালো, নইলে ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
খাওয়ার পরপরই
খাবার বা পানি গ্রহণের পর শরীরে সাময়িকভাবে ওজন বেড়ে যায়। এটি চর্বি নয়, বরং খাবারের ওজন—তাই এটি প্রকৃত পরিবর্তন বোঝায় না।
মাসিক চলাকালীন সময়
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পানি জমে ও ফোলাভাব দেখা দেয়। এতে হঠাৎ করে ২-৫ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বাড়তে পারে, যা পরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

অ্যালকোহল গ্রহণের পর
অ্যালকোহল শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে কখনো ওজন বেশি, কখনো কম দেখাতে পারে—কিন্তু কোনোটিই বাস্তব চিত্র নয়।
ব্যায়ামের ঠিক পরেই
ঘাম ঝরার কারণে শরীর হালকা মনে হতে পারে, কিন্তু এটি আসলে ওজন কমা নয়—শুধু পানি কমে যাওয়ার প্রভাব।
দিনের বিভিন্ন সময়ে বারবার
সকালে থেকে রাতে একজন মানুষের ওজন স্বাভাবিকভাবেই ২-৬ পাউন্ড পর্যন্ত ওঠানামা করে। তাই এলোমেলো সময়ে মাপলে ফলাফল বিভ্রান্তিকর হবে।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারের পর
লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যেতে পারে।
চিট ডে বা বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর
কার্বোহাইড্রেট শরীরে পানি ধরে রাখে। এতে ওজন ৩-৬ পাউন্ড পর্যন্ত বেশি দেখাতে পারে, যা আসলে চর্বি নয়।

* সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সময় হলো—সকালে ঘুম থেকে উঠে, বাথরুম ব্যবহারের পর, কিন্তু কিছু খাওয়া বা পান করার আগে। এই সময় শরীর সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকে, ফলে একটি নির্ভরযোগ্য বেসলাইন পাওয়া যায়।
* এছাড়া হালকা পোশাক বা সম্ভব হলে একই ধরনের পোশাকে প্রতিদিন ওজন মাপা উচিত, যাতে ফলাফল আরও সঠিক হয়।

ওজন কমানো একটি ধীর, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের সামান্য ওঠানামা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে নিয়মিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের দিকে মনোযোগ দেওয়াই আসল চাবিকাঠি। সঠিক সময়ে ওজন মাপলে আপনি নিজের অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন—আর সেটাই আপনাকে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
ছবি: পেকজেলসডটকম