
গোসলের সময়, পা পরিষ্কার করতে গিয়ে কিংবা নখ কাটার সময় পায়ের আঙুলের ছোট ছোট লোম চোখে পড়তেই পারে। অনেকেই এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ছেঁটে ফেলেন কিংবা এ নিয়ে ভাবেন না। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, পায়ের আঙুলের এই লোম কখনো কখনো শরীরের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে পারে। বিশেষ করে রক্ত সঞ্চালনের বিষয়ে।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও পায়ের আঙুলের লোম শরীরের রক্ত সঞ্চালন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, পায়ের আঙুল হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের সবচেয়ে দূরের অংশগুলোর একটি। ফলে শরীরের এই প্রান্তিক অংশে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছানো সব সময় সহজ নয়। লোমের গোড়া জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি। এসব কোষের বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য নিয়মিত অক্সিজেন, পুষ্টি ও পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। তাই পায়ের আঙুলে স্বাভাবিকভাবে লোম থাকা অনেক সময় ওই অংশে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে পায়ের আঙুলে লোম থাকা বা না থাকা দিয়ে কারও স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
পায়ের আঙুলে লোম না থাকলেই রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শরীরে লোমের পরিমাণ ব্যক্তি ভেদে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হতে পারে। এর পেছনে বেশ কিছু বিষয় ভূমিকা রাখে। যেমন—
বংশগত বৈশিষ্ট্য
বয়স
হরমোনের প্রভাব
জাতিগত বৈচিত্র্য

কারও শরীরে স্বাভাবিকভাবেই লোম কম থাকতে পারে। তাই জন্ম থেকেই যদি পায়ের আঙুলে লোম কম থাকে, সেটি একা কোনো রোগের লক্ষণ নয়।
তবে আগে পায়ের আঙুলে লোম ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে তা কমে যেতে শুরু করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে এর সঙ্গে আরও কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেমন—
পা অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা
পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ অনুভূতি হওয়া
হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হওয়া
পায়ের রং ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যাওয়া
পায়ের ক্ষত বা ঘা শুকাতে দেরি হওয়া
এসব লক্ষণ দুর্বল রক্ত সঞ্চালন, ধমনি সরু হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা কিংবা অন্য কোনো রক্তনালিজনিত জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তাই পায়ের আঙুলের লোম কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তনের সঙ্গে যদি এসব লক্ষণও দেখা দেয়, তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নিয়মিত হাঁটুন: হাঁটাহাঁটি পায়ের পেশি সক্রিয় রাখে এবং রক্ত চলাচলে সহায়তা করে।
একটানা বসে থাকবেন না: দীর্ঘ সময় বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্ত সঞ্চালনসহ বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন: ধূমপান রক্তনালিকে সংকুচিত করতে পারে, ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
সুষম খাবার খান: শাকসবজি, ফল, মাছ ও বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, পায়ের আঙুলের লোম কোনো চূড়ান্ত স্বাস্থ্যপরীক্ষা নয়। শরীরে লোমের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হতে পারে। তবে লোম কমে যাওয়ার সঙ্গে পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অবশ লাগা, হাঁটলে ব্যথা হওয়া বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ কখনো কখনো ছোট একটি পরিবর্তনই বড় কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন, রিকনস্ট্রাকটিভ ফুট অ্যান্ড অ্যাংকেল ইন্সটিটিউট
ছবি: ইন্সটাগ্রাম