
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে চিনি খেতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা; কিন্তু চিনি যে খাদ্যতালিকা থেকে একদম বাদ দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তি দিনে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি খেতে পারবেন। বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) অনুসারে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী একজন সাধারণ ব্যক্তি প্রতিদিন মাত্র ৬ চা–চামচ চিনি খেতে পারেন, যার পরিমাণ প্রায় ২৫ গ্রাম।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলে, পুরুষরা ৩৭ দশমিক ৫ গ্রাম পর্যন্ত এবং মহিলারা ২৫ গ্রাম পর্যন্ত চিনি খেতে পারেন। এখানে উল্লেখ্য, ৬ চা–চামচ চিনির মধ্যে কার্বোহাইড্রেটও আছে। তার মানে আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খাচ্ছি, যেমন ভাত বা রুটি, সেগুলো দিন শেষে চিনিতে পরিবর্তিত হয়ে আমাদের শরীরে শক্তি জোগান দেয়। তাই প্রতিদিনই প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট বাদে আমাদের অতিরিক্ত চিনি খাওয়া বর্জন করতে হবে।
এ জন্য খাদ্যতালিকায় চিনির বিকল্প কিছু মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। যেমন–

গুড়ের মধ্যে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। যে কারণে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে গুড় খুব জনপ্রিয়।

আখ আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আখের রস থেকে এই চিনি তৈরি হয়। এই চিনি দেখতে বাদামি রঙের হয়। সেই সঙ্গে এর স্বাদও গুড়ের মতো। এই চিনির মধ্যে ক্যালোরির পরিমাণ কম। এই চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে পায়েস, চা ও কেক তৈরির কাজেও। এ ছাড়া যেকোনো গরম পানীয়ের সঙ্গে খেতে পারেন।

তাল থেকে তৈরি চিনি কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী। তাল থেকে গুড়ও তৈরি হয়। ফুলের মধ্যে যে ফ্রুক্টোজ থাকে তার থেকে প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়েই এই চিনি তৈরি করা হয়। যে কারণে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এই চিনি কিন্তু খুব জনপ্রিয়।

খেজুর থেকে যে চিনি তৈরি হয়, তা আমাদের ডিক্সিফিকেশনেও সাহায্য করে।

মধু আমাদের শরীরের জন্যও ভালো। থাকে প্রয়োজনীয় খনিজ। মধুতে থাকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম আর পটাশিয়ামের মতো মিনারেল। চিনির বিকল্প হিসেবে এটি খুবই উপযোগী।

আপেল, আঙুর, কলা, বেদানার মতো ফলগুলো এমনিতেই মিষ্টি। খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করলে কয়েক টুকরা ফল খেয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট খেতে পারেন। এর পাশাপাশি কুমড়া এবং তিসির বীজও রাখুন রোজকার খাদ্যতালিকায়। এগুলো খেলে পেট বেশিক্ষণ ভরে থাকবে। আর মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও মিটবে।
ছবি: পেকজেলসডটকম ও উইকিপিডিয়া