
ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, ঠান্ডা খাবার নয়, উষ্ণ বা গরম খাবারই শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফ্রিজ থেকে সরাসরি ঠান্ডা খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই ক্লান্তি, ভারী লাগা বা অস্থিরতা অনুভব হয়। এমন অবস্থায় আমরা প্রায়ই এক কাপ গরম চা বা কফির দিকে হাত বাড়াই। গবেষণায় জানা গেল, এই অভ্যাসের পেছনেও রয়েছে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।

সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার বা পানীয়ের তাপমাত্রা আমাদের শরীর ও মনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
গরম খাবার মানেই ভালো হজম ও ভালো মুড
সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৪০০ প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন। যাঁরা নিয়মিত ঠান্ডা খাবার বা পানীয় গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ, অনিদ্রা ও হজমের সমস্যা তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে, যারা শীতকালে গরম পানীয় যেমন চা, কফি বা স্যুপ গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও ভালো ঘুমের প্রবণতা বেড়েছে।
কেন গরম খাবারে শরীর স্বস্তি পায়
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, গরম খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় তাপ ও শক্তি দেয়। ঠান্ডা খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়, ফলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষত যাদের হাত-পা প্রায়ই ঠান্ডা থাকে বা রক্তসঞ্চালন কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা খাবার মানসিক ও শারীরিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

প্রাচীন জ্ঞান, আধুনিক ব্যাখ্যা
আয়ুর্বেদ ও চীনা চিকিৎসা পদ্ধতিতে বহু শতাব্দী ধরেই বলা হচ্ছে। গরম খাবার হজমে সহায়ক এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখে। গবেষকেরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করে “গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস”। অর্থাৎ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সংযোগ। ধীর হজমের কারণে শরীরে যে চাপ তৈরি হয়, তা সরাসরি প্রভাব ফেলে মনের ওপর।

সকালের কফি হোক, দুপুরের ভাত কিংবা রাতের স্যুপ। একটু উষ্ণতার ছোঁয়ায় শরীর যেমন তৃপ্ত হয়, মনও পায় প্রশান্তি। তাই পরেরবার ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা খাবার হাতে নেওয়ার আগে ভাবুন। আপনার মুড, হজম, এমনকি ঘুম সবকিছুর উত্তর হয়তো এক কাপ গরম চায়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সূত্র: ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি