সফলভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে অনুসরণ করুন ৫টি সহজ পদ্ধতি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বেশ কয়েক বছর ধরে ডায়েট ট্রেন্ডের তুঙ্গে রয়েছে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। এর অনুসারীরা খুব জোর দিয়েই বলেন, এ ডায়েট ওজন তো নিয়ন্ত্রণ করেই, সঙ্গে দেয় সুস্থ জীবন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এখনো আর এর ফল সবই বেশ আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক। বিখ্যাত অ্যানুয়াল রিভিউ অব নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধ অনুযায়ী নতুন এক সমীক্ষা বলছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শরীরের ওজন কমাতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। আবার রক্তচাপ আর কোলেস্টেরলও সীমার মধ্যে রাখে এই ডায়েট।


ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ভালো, সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু শুরু করবেন কবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। উত্তর হচ্ছে এক্ষুনি শুরু করে দেওয়া যায়। আর সে জন্য অনুসরণ করতে হবে কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর টিপস।

বিজ্ঞাপন

আর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের রয়েছে বিভিন্ন স্বীকৃত পদ্ধতি। এর মধ্যে সময় বেঁধে খাওয়াটাই বেশি জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে উপোস থাকতে হয়, আর বাকি সময়ে খাওয়াদাওয়া করা যায়। একে ফাস্টিং উইন্ডো বলা হয়। যেমন দিনে ১৮ ঘণ্টা না খেয়ে বাকি ৬ ঘণ্টায় যা খাওয়ার খেয়ে নিতে হয়। আবার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের আরেকটি পদ্ধতিতে এক দিন পরপর উপোস করতে হয়। এ ছাড়া ৫ আর ২ পদ্ধতিতে সপ্তাহে ২ দিন উপোস করে বাকি ৫ দিন খেতে হয়। তবে যে পদ্ধতিই অবলম্বন করা হোক, এই টিপসগুলো সব ক্ষেত্রেই বেশ কার্যকর।


১. শুরুতেই তাড়াহুড়া নয়

শুরুতেই পড়িমরি করে দৌড় দিলে যেমন আছাড় খেতে হয় বা পরে বেশি ক্লান্ত হয়ে থেমে যেতে হয়, তেমনি তা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের জন্যও প্রযোজ্য। প্রথমে ১২ ঘণ্টা ফাস্টিং দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে ১৬ আর ৮ ঘণ্টা শিডিউলে চলে আসতে হবে। প্রথম প্রথম অতিরিক্ত লো কার্ব খাবার খাওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

২. কেন ফাস্টিং করছেন, তা বুঝে নিন

যদি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য না থাকে, তবে কোনো কিছুতেই সফলতা আসে না। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুধু যে ওজন কমায়, তা কিন্তু নয়। হজমের সমস্যা দূর করে পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখতে পারে এ অভ্যাস। এদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। অতিভোজন পরিত্যাগ করে আত্মিক শান্তি লাভ করে সুস্থতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতেও অনেকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন। তাই জানতে হবে আপনি আসলে কী চান।

৩. যত দেরিতে পারা যায়, সকালের নাশতা করুন

সারা রাত ফাস্টিং করে সকালের খাবার একটু একটু করে পেছানো একটি সহজ পদ্ধতি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার। সকালে উঠে ওয়ার্ক আউট, বাইরে হাঁটতে যাওয়া বা ইয়োগা ইত্যাদি কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেললে খাওয়ার ক্রেভিং হবে না। কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেও একই জিনিস করা সম্ভব। এভাবে আস্তে আস্তে ফাস্টিং উইন্ডো বাড়ানো যায়।

৪. প্রচুর পানি পান করুন

অনেক সময় আমাদের পিপাসা পেলে আমরা ভাবি যে ক্ষুধা পেয়েছে। আর এমনিতেও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার সময় নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে হবে। এতে ক্ষুধার অনুভূতি যেমন সামাল দেওয়া যাবে, শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যাবে কার্যকরভাবে। সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে দু-তিন লিটার পানি পান করতে হবে।

৫. নিজের প্রতি সদয় হোন
সারাক্ষণ নিজেকে চাপের মধ্যে রাখা যাবে না। একেকজনের শরীর একেক রকম। তাই অন্য কারও দ্রুত ওজন কমলেই যে আপনার সমানভাবে কমবে, তা নয়। আবার আপনার পছন্দের খাবার একেবারেই খাওয়া নিষেধ এ রকম করা যাবে না। তেমনি ফাস্টিং উইন্ডো সকাল বা রাতে পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার সময় অনুযায়ী আগুপিছু করে নিতে হবে। ডায়েট জীবনের জন্য, জীবন ডায়েটের জন্য নয়।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

ছবি: পেকজেলস ডট কম

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০১: ৩৭
বিজ্ঞাপন