
শরীরের কাঠামো গড়ে তোলা থেকে শুরু করে চলাফেরা—প্রায় প্রতিটি দৈনন্দিন কাজের সঙ্গেই হাড়ের সরাসরি সম্পর্ক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাই হাড়ের স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। আর সেই যত্নে সুষম খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিল ছোট হলেও এতে রয়েছে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। বিশেষ করে খোসাসহ বা আনহালড তিলে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। হাড়ের গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসও হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।
তিলে থাকা জিংক শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। অন্যদিকে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির বৈচিত্র্য যোগ করতে পারে।
তবে শুধু তিল খেলেই হাড় সুস্থ থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। হাড়ের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, প্রয়োজনীয় প্রোটিন, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুর সমন্বয় জরুরি।

তিলের পুষ্টিগুণ শুধু খনিজে সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ, যা এর সামগ্রিক পুষ্টিমানকে আরও সমৃদ্ধ করে। খোসাসহ তিলে এসব পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তাই প্রতিদিনের খাবারে তিল যোগ করার সময় সম্ভব হলে খোসাসহ তিল বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে খাবারের ধরন ও ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর পুষ্টি পাওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে।

তিল খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালের ওটমিল বা সিরিয়ালের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া যায়। সালাদ, ফল কিংবা স্মুদিতেও অল্প পরিমাণ তিল যোগ করা যেতে পারে।
ভাত, সবজি কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া খাবারের ওপর ছড়িয়ে দিয়েও তিল খাওয়া যায়। তিল দিয়ে তৈরি তিলের চাটনি, ভর্তা কিংবা বিভিন্ন খাবারের টপিংও হতে পারে সহজ বিকল্প।
তবে তিল তুলনামূলকভাবে ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। তাই স্বাস্থ্যকর হলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। আবার যাদের তিলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলতে হবে।
হাড় ভালো রাখার জন্য সবসময় দামি বা বিশেষ কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। আমাদের পরিচিত রান্নাঘরের অনেক খাবারেই রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি। তিল তারই একটি ছোট উদাহরণ।

সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত তিল রাখা যেতে পারে প্রতিদিনের খাবারে। তবে এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার দিকেও নজর দিতে হবে।
দিনের খাবারে এক চিমটি তিল হয়তো খুব বড় কোনো পরিবর্তন মনে হবে না। কিন্তু সুস্থ থাকার অভ্যাসও তো তৈরি হয় এমন ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই।
ছবি: পেকজেলসডটকম