এক মিনিটের রাগ আয়ু কমায় ৫ ঘণ্টা, বলছে গবেষণা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

অনেকেই ছোটখাটো বিষয়েও দ্রুত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কখনো উচ্চস্বরে কথা বলা, কখনো দীর্ঘ সময় ক্ষোভ জমিয়ে রাখা। এসব আচরণ ধীরে ধীরে মানসিক চাপ বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগকে শুধু একটি মুহূর্তের আবেগ ভাবলে ভুল হবে; এর প্রভাব শরীরের ভেতরে অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগের সময় শরীর এমন এক অবস্থায় চলে যায়, যাকে বলা হয় “ফাইট অর ফ্লাইট” প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ মস্তিষ্ক মনে করে শরীর কোনো হুমকির মুখে আছে এবং নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। তখন শরীরে দ্রুত বাড়তে থাকে স্ট্রেস হরমোন, কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন।

engin akyurt

এই হরমোনগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করলেও, বারবার বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। রাগের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়তে পারে, পেশিতে টান তৈরি হয় এবং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত স্ট্রেস ও রাগের অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং শরীর সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘস্থায়ী রাগ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য, ঘুম, হজম এবং মানসিক স্বস্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাগের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে আমাদের চারপাশের মানুষের ওপর। একজন মানুষের নেতিবাচক আবেগ অনেক সময় পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তৈরি হয় অস্বস্তিকর ও চাপপূর্ণ পরিবেশ।
তবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়। রাগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কয়েক মুহূর্ত বিরতি নেওয়া অনেক সময় পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। গভীর শ্বাস নেওয়া, পানি পান করা, কিছুক্ষণ নীরব থাকা কিংবা জায়গা পরিবর্তন করা মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, প্রার্থনা কিংবা সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর হতে পারে।

রাগ নিজে কোনো শত্রু নয়। বরং এটি আমাদের অনুভূতির একটি অংশ। তবে অনিয়ন্ত্রিত রাগ ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর বোঝা হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজের আবেগকে বুঝে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা শুধু ভালো সম্পর্কের জন্য নয়, সুস্থ জীবনযাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ছবি: পেকজেলসডটকম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন