অবয়বে আত্মসম্মান
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আপনি কি আপনার সম্পর্কে এসব ভাবনা প্রায়ই ভেবে থাকেন? যেমন অন্য মানুষ আমার চেয়ে ভালো, আমি কোনো কিছু পাওয়ার যোগ্য নই, আমি দেখতে অনেক খারাপ, তাই অন্যরা আমাকে পছন্দ করে না, অন্যরা আমার চেয়ে অনেক ভালো, আমাকে দিয়ে ভালো কিছু হবে না, আমি সব নষ্টের মূল। যদি ভেবে থাকেন, তাহলে আপনি প্রতিনিয়ত আপনার নিজের প্রতি নেতিবাচক আত্মসম্মান চর্চা করছেন। যার ফলে বিভিন্ন সমস্যা যেমন বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা, অস্থিরতা, আত্মহত্যার মতো বিভিন্ন সমস্যার মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা বহন করে চলেছেন।

আর নিজের আত্মসম্মানবোধ কেমন? তা জানতে আজ আমরা নতুন একটি আর্ট থেরাপি কৌশল জানব, যা আয়নায় নিজের অবয়ব দেখে আঁকার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যাবে। তার আগে আত্মসম্মান বিষয়টি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়া যাক।

বিজ্ঞাপন

আত্মসম্মান (self-esteem) হলো, আমরা কীভাবে নিজেকে মূল্যায়ন করি ও নিজের সম্পর্কে কেমন অনুভব করি, তার উপলব্ধি। যদি কারও আত্মসম্মান কম থাকে, তাহলে এর মানে হলো, সম্ভবত তিনি কম আত্মবিশ্বাস বা নিজের নেতিবাচক দিকগুলোকে বেশি লক্ষ করেন। অপর দিকে যদি কারও আত্মমর্যাদা বা আত্মসম্মান ইতিবাচক হয়, তবে তিনি নিজের প্রতি যত্নশীল এবং জীবন সম্পর্কে আরও ইতিবাচক থাকতে পারেন। আত্মসম্মান এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা নিজের প্রতি নিজের মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস ইত্যাদিকে প্রভাবিত করে।

শুধু তা–ই নয়, এই সম্মানবোধ অন্যের প্রতি নিজের আচরণ কেমন হবে, তারও নির্দেশনা প্রদান করে। অনেকে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসকে এক মনে করেন; কিন্তু দুটি বিষয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আত্মসম্মান নিজের প্রতি নিজেকে আমি কীভাবে দেখি আর আত্মবিশ্বাস হলো নিজের দক্ষতা এবং ক্ষমতাসম্পর্কিত মনোভাব।
গবেষণায় দেখা যায়, নিম্ন বা নেতিবাচক আত্মসম্মানবোধ বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে যুক্ত। যেমন বিষণ্নতা, উদ্বেগ, খাবারের সমস্যা, সামাজিক ভীতি, মনোযোগের সমস্যা, মাদকের অপব্যবহার ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন

আত্মসম্মান তিন ধরনের। যেমন—
১. শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি
২.অন্যের অনুমোদন ও
৩.স্বতন্ত্রতা

এই কৌশল মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরাও এটি অনুশীলন করতে পারে।

উপকরণ
একটি A3 আকারের আর্ট পেপার, আয়না, রঙিন পেনসিল বা প্যাস্টেল অথবা পেইন্ট ইত্যাদি।

যেভাবে কাজটি করা হবে

• প্রথমে আয়নাটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন যাতে আপনি নিজেকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পান।
• শ্বাস-প্রশ্বাস কয়েকবার ছেড়ে নিজেকে শান্ত করে কাজটি শুরু করুন।
• সংক্ষিপ্ত স্কেচ বা ওয়ার্মআপ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
• তারপর আয়নায় নিজেকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন আর পর্যবেক্ষণ করার পর ওই অবয়বের ছবি আর্ট পেপারে ফুটিয়ে তুলুন। এই কাজ করার সময় একটি বিষয় মনে রাখবেন। সেটি হলো, নিখুঁতভাবে ছবিটি আঁকতে হবে, এমন চিন্তা না করা। কারণ, আঁকা ছবিটিতে আপনি কত সুন্দর ছবি আঁকতে পারেন, তা দেখা হবে না, বরং দেখা হবে যে আপনি আপনার সম্পর্কে কী বোধ করেন, তা ফুটে ওঠে কি না, তা দেখা।
• কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া নিজেকে দেখে নিজের অনুভূতি, আলো, ছায়া, গড়ন ও গঠন ফুটিয়ে তুলুন।
• অনুশীলনটি সম্পূর্ণ করতে নিজেকে দুই, পাঁচ, দশ বা বিশ মিনিট সময় দিন।
• নিজেকে এভাবে দেখার চেষ্টা করুন যে আপনি প্রথম এই ছবিটি দেখছেন।

ছবিটি আঁকা শেষ হয়ে গেলে কিছু প্রশ্নের উত্তর বের করুন।
• ছবিটি আঁকার সময় নিজের সম্পর্কে কী কী মনে হয়েছে, তা লিখুন।
• নিজের সম্পর্কে কতগুলো ইতিবাচক ও নেতিবাচক ধারণা পেয়েছেন, তা লিখুন।
• কীভাবে নেতিবাচক আত্মধারণাগুলো পরিবর্তন করবেন ও ইতিবাচক ধারণাগুলো আরও শক্তিশালী করবেন, সে কৌশল বের করুন।
মনে রাখবেন, মানুষ হয়ে ওঠার প্রকৃত প্রতিফলন ইতিবাচক আত্মসম্মান ধারণের মাধ্যমেই সম্ভব।

অলংকরণ: আফীফা আমিন

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০৬: ০১
বিজ্ঞাপন