কিডনি রোগীরা রোজা রাখলে এই ১০টি নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

সামনেই আসছে রোজার মাস। এসময় কিডনি রোগীরা এই ভেবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন যে তাঁরা রোজা রাখতে পারবেন কিনা আর তাঁদের জন্য রোজা রাখা কতটুকু নিরাপদ। বিশেষজ্ঞরা বলেন,যাঁদের কিডনি রোগ থাকা সত্ত্বেও কিডনি ফাংশন ভালো আছে, তাঁদের রোজা রাখতে বাধা নেই। এই রোগীরা স্বাভাবিক নিয়মেই রোজা রাখতে পারবেন। শুধু যাদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ রয়েছে বা তা স্টেজ ৩, ৪, ৫ এ চলে গিয়েছে, তাঁদের রোজা রাখার ব্যাপারে ঝুঁকি আছে। এছাড়াও কারও যদি আকস্মিক কিডনি বিকল হয়ে যায়, ডায়রিয়া ও বমি হয়ে পানিশূন্যতা হয়,  রক্তক্ষরণ বা তীব্র মাত্রার ইনফেকশনের জন্য কিডনি না কাজ করে, সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই রোজা রাখা যাবে না।

কিডনি রোগীদেরকে এ সময় নিয়ম মেনে চলতে হবে
কিডনি রোগীদেরকে এ সময় নিয়ম মেনে চলতে হবে

যাঁরা সিকেডি স্টেজ ৫-এ আছেন, যাঁদের ডায়ালাইসিস করতে হয়, তাঁদের রোজা রাখায় ঝুঁকি আছে। কিডনি রোগীদের নির্ধারিত পরিমাণ পানি পান,পানির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। মূলত যেসব কিডনি রোগীর ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট ৬০ মিলিলিটারের থেকে কম, তাঁদেরকে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়। আর এ পরীক্ষা রোগীর ২৪ ঘণ্টা প্রস্রাব সংগ্রহ করে করা হয়। কারণ পানিশূন্যতা থেকে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞাপন

কিডনি রোগীরা যারা রোজা রাখেন বা রাখতে চান তাদের জন্য পরামর্শ

১. কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। পেয়ারা ও আপেলে তুলনামূলক পটাসিয়ামের পরিমাণ কম থাকে, এ জন্য কিডনি রোগীরা এগুলো খেতে পারেন। তবে ডাবের পানি, লেবু চা, টমেটো, কলা ইত্যাদি খাবার খাওয়া যাবে না। এসব খাবারে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। আর শাকসবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে রান্নার পর পানি ফেলে দিয়ে তারপর খেতে হবে।

আপেল, নাশপাতি খাওয়া যাবে
আপেল, নাশপাতি খাওয়া যাবে

২. এক টুকরোর বেশি মাছ বা মাংস খাওয়া যাবে না। যদি ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকে তাহলে কলিজা, গরুর মাংস, সামুদ্রিক মাছ খাওয়া যাবে না।

৩. ডায়াবেটিসের কারণে যদি কিডনি রোগ হয়, তাহলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪. রোজায় নিয়ম করে তিন বেলা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি, কোনোটাই বাদ দেয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

৫. রক্তচাপ কম বা বেশি থাকা দুটিই কিডনি রোগের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে যাতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা না বাড়ে সেজন্য অবশ্যই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে রোগীকে। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

৬. সাধারণত ইফতারে আমরা ডাল জাতীয় খাবার যেমন- ছোলা, পেঁয়াজু বা বেসন দিয়ে তৈরি খাবার বেশি খেয়ে থাকি। কিন্তু ডাল বা বিচিজাতীয় খাবারগুলো কিডনি রোগীকে সম্পূর্ণ পরিহার করে চলতে হবে।

ডাল, ছোলা, বেসন এড়িয়ে চলতে হবে
ডাল, ছোলা, বেসন এড়িয়ে চলতে হবে

৭. কিডনিবান্ধব খাবারের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে তাঁর জন্য উপযোগী খাবারগুলো নির্ধারণ করে নিতে হবে। সাধারণত  কিডনি রোগীরা ইফতারিতে দই চিড়া খেতে পারেন। মুড়ি, নুডলস বা সেমাই খাওয়া যেতে পারে। এমনকি ভাত বা রুটিও খেতে পারেন তাঁরা।

৮. পানি কতটুকু পান করবেন সেদিকে খেয়াল রাখবেন। লবণ বা পটাসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়ার বিষয়ে সাবধান হতে হবে।

পানি কতটুকু পান করবেন সেদিকে খেয়াল রাখবেন
পানি কতটুকু পান করবেন সেদিকে খেয়াল রাখবেন

৯. এদিকে দেহের যে আমিষের চাহিদা রয়েছে সেটা যেন পূরণ হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। মাছ, মুরগির মাংস ও ডিম খেতে পারবেন।

১০. ইফতারিতে ফলের মধ্যে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি খেতে পারবেন। সবজির মধ্যে কাঁকরোল, পেঁপে, চালকুমড়া, লাউ, চিচিংগা, ধুন্দল, পটোল ইত্যাদি খাওয়া যায়।

সকালের ওষুধ সাহরিতে এবং রাতের ওষুধ ইফতারে খাওয়া যাবে। সকালে বা সাহরিতে ওষুধ কম রাখা ভালো; যদি সম্ভব হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই রোজা রাখতে হবে।

ছবি: ইন্সটাগ্রাম ও পেকজেলস ডট কম

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩: ১৮
বিজ্ঞাপন