
জোরে দৌড়ালে হাঁপিয়ে যাই আমরা। শ্বাসপ্রশ্বাস বেড়ে যায়। অথচ অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে এ সমস্যা হয় না; বরং বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যায় তেমন ক্লান্তি ছাড়াই। ক্লান্তি ছাড়াই ঘণ্টাখানেক এভাবে দৌড়াতে পারবেন। শুধু তা–ই নয়, এতে আপনার বেশি ক্যালরি ক্ষয় হবে, সেই সঙ্গে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। আস্তে দৌড়ানো যেকোনো বয়সের যেকোনো মানুষের জন্যই সম্ভব। আপনি যদি সবে শরীরচর্চা শুরু করে থাকেন, তাহলে এই হাঁটা আপনার জন্য ভালো শুরু হতে পারে। আপনি কত জোরে দৌড়াচ্ছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার ইনডিওরেন্স বা সহনশীলতা কত ভালো। কম প্রচেষ্টা দিয়ে আনন্দের সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করাই মূল বিষয়। আস্তে দৌড়ানো আপনাকে কম ক্লান্ত করে। ফলে আপনি দীর্ঘ সময় লম্বা দূরত্ব দৌড়াতে পারবেন।

জগিং মানে একটু বেশি কসরত করে জোরে দৌড়ানো। আস্তে দৌড়ানোর মানে হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট ছন্দে দৌড়ানো। এই ছন্দে দৌড়ালে আপনি হাঁপাবেন না এবং আস্তে দৌড়াতে দৌড়াতে কথা বলা সম্ভব।

এতে আপনার শারীরিক সহিষ্ণুতা বাড়ে, শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আপনি ধীরে ধীরে ভালো দৌড়াতে পারবেন। এর ফলে আপনার হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। সার্বিক সুস্থতার জন্য যা খুবই প্রয়োজনীয়। জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিনের গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে, আস্তে আস্তে লম্বা দূরত্বে দৌড়ানো কোষের মাইক্রোকন্ডিয়া সৃষ্টি করে, যা দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে।

জোরে দৌড়ানো বা হাই ইনটেনসিটি রানিংয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আস্তে দৌড়ালে তা পায়ের অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে, ফলে আঘাতের আশঙ্কা বা মচকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে সাম্প্রতিক গবেষণা উপাত্তে দেখা যায়, হায়ার রানিং ইনটেনসিটিতে যাঁরা দৌড়ান, তাঁদের দৌড়সংক্রান্ত আঘাত লম্বা সময় ধরে থাকে; অথচ তুলনামূলকভাবে যাঁরা আস্তে দৌড়ে অভ্যস্ত, তাঁদের এ ঝুঁকি অনেকাংশে কম থাকে।

আস্তে দৌড়ালে তা দেহে জমে থাকা চর্বিকে পোড়ায়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলে ওজন খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। আস্তে দৌড়ালে ফ্যাট বার্নিং জোনে বেশি সময় ধরে চাপ পড়ে, ফলে ওজন কমে। সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার সমন্বয় থাকতে হবে।

যাঁরা নিয়মিত ম্যারাথনে দৌড়ান বা ট্রেকিং বা হাইকিং করেন, তাঁদের পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে লম্বা সময় ধরে আস্তে দৌড়ের অভ্যাস দারুণ কার্যকর।
লম্বা সময় ধরে ফিটনেস ধরে রাখতে সহায়তা করে
যাঁরা নিয়মিত আস্তে হাঁটার ছন্দময় অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাঁরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফিটনেস ধরে রেখে সুস্থ থাকতে পারেন।
ছবি: পেকজেলসডটকম