আপনি কি ইটিং ডিজঅর্ডারে ভুগছেন, মিলিয়ে নিন লক্ষণগুলো
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আমাদের মধ্যে অনেকেরই দিনের খাবার গ্রহণের রুটিন, মেনু আর প্যাটার্ন সঠিক নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যাভ্যাস অতিরিক্ত এলোমেলো হলে বা কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে, তা ইটিং ডিজঅর্ডারের কারণে হতে পারে। বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ খাদ্য গ্রহণ। আর এখানেই যদি অস্বাভাবিকতা থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইটিং ডিজঅর্ডারের কারণে শরীর ও মন দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা নেই বললেই চলে।

খাওয়ার আগে ক্যালরির চুলচেরা হিসাব করেন, সারাক্ষণ শুধু এটা খাওয়া যাবে তো সেটা যাবে না বলে মতামত দেওয়া, অথবা মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকা। এদিকে হাতের কাছে যা পাই নয়তো যেভাবে পারি, সেভাবে জোগাড় করে হলেও জাংক ফুড আর পানীয় গ্রহণ করা। আপনি বা আমি যে–কেউ হতে পারি এমন। এই যে খাবার নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা, আবার মাত্রাতিরিক্ত এলোমেলো খাওয়ার মতো অভ্যাসগুলো, চিকিৎসাবিজ্ঞান একে ইটিং ডিজঅর্ডার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইটিং ডিজঅর্ডার হলো একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যাতে অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের লক্ষণ দেখা যায়। এই অস্বাভাবিকতা একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সব সময় খাবার, শরীরের ওজন ও নিজের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন ধরনের ইটিং ডিজঅর্ডার রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়গুলো হলো অ্যানোরেক্সিয়া , বুলিমিয়া আর বিঞ্জ-ইটিং।

অ্যানোরেক্সিয়া: না খেয়ে থাকা বা নামমাত্র খাওয়া

ওজন সচেতনতাকে অতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি আমরা। মাঝেমধ্যে ওজন কমানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলে নিজের সঙ্গে। ফ্যাড ডায়েট, কিটো ডায়েট নামে কিছু টার্ম বর্তমান সমাজে অনেক প্রচলিত এবং এসবের প্রভাবে অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস তৈরি করছেন অনেকেই। এভাবে নিজের ক্ষতির কারণ হচ্ছেন নিজেই।

অ্যানোরেক্সিয়ার লক্ষণ

যে করেই হোক অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করার প্রবণতা। অনেক সময় খুব কম খাওয়া বা মোটা হওয়ার ভয় করা শরীরের আকার নিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকা এ রোগের লক্ষণ। অ্যানোরেক্সিয়া নারভোসা হওয়ার কারণে মানসিক সমস্যার সঙ্গে শারীরিক সমস্যাও হতে পারে, যেমন ত্বকের স্থিতিশীলতা নাশ, স্নায়ুতান্ত্রিক সমস্যা ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন

বুলিমিয়া: অনিয়মিত আর একসময় বেশি ও আরেক সময় বেশি খাওয়া

বুলিমিয়া একটি ইটিং অদ্ভুত ডিজঅর্ডার। কিন্তু যার হয়, তিনি খুবই মানসিক যন্ত্রণা বোধ করেন। বুলিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণত স্বাভাবিক, স্বাস্থ্যকর ওজন থাকে। কিন্তু তাঁরা শরীরের আকৃতি ও ওজন সম্পর্কে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে খুব বেশি বিচলিত থাকেন।

বুলিমিয়া আক্রান্তদের লক্ষণ

অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা, খাওয়ার পরে যাতে ওহজন না বাড়ে সেজন্য স্ব-প্ররোচিত বমি আবার এদিকে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে খুব কম খাওয়া, একেবারেই না খাওয়া।

বিঞ্জ-ইটিং: হতাশা থেকে অতিরিক্ত ও এলোমেলো খাওয়া

আমরা সবাই কোনো বিশেষ উপলক্ষে বা ছুটির দিনে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে থাকি। তবে বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অস্বাভাবিকভাবে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করেন এবং খাওয়া বন্ধ করতে অক্ষম হয়ে থাকেন। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে খাদ্যগ্রহণ যখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তখন তা মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়, যা প্রভাবিত করে শরীরকেও। বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বেশির ভাগ লোকের ওজন বেড়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ওজন স্বাভাবিক হতে পারে।

বিঞ্জ ইটিং ডিজঅর্ডারের লক্ষণ

এই রোগের লক্ষণ পেট ভরা বা ক্ষুধার্ত না থাকলেও খাওয়া। ঘন ঘন একা বা গোপনে খাওয়া। খাওয়ার ব্যাপারে বিষণ্ন, বিরক্তিকর, লজ্জিত, দোষী বা বিরক্ত বোধ করা ঘন ঘন ডায়েট শুরু করা আর আগের অভ্যাসে ফিরে যাওয়া, যা শারীরিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

আমাদের আশপাশে অনেকেই আছেন, যাঁরা উল্লিখিত সমস্যাগুলো বয়ে বেড়াচ্ছেন। এই মানসিক ব্যাধিগুলো দীর্ঘমেয়াদি হলে নিঃসন্দেহে তা ঝুঁকিপূর্ণ। নিজে নিজে বের হয়ে আসতে না পারলে প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা আনতে মেডিটেশনও করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: ভেরি ওয়েল ফিট

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬: ০২
বিজ্ঞাপন