ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে প্রতিদিনই নতুন নতুন ডায়েট প্ল্যান আর ট্রেন্ড ভাইরাল হয়। কেউ বলে কিটো, কেউ বলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, আবার কেউবা বলে জুস ক্লিন্স! কিন্তু এগুলোর পেছনে না ছুটে যদি কিছু মৌলিক বিষয় নিয়মিতভাবে মেনে চলা যায়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে ওজন কমানো এবং তা ধরে রাখা দুটোই সহজ হবে।
সুষম খাবার
প্রথম শর্ত হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল আর হোল গ্রেইন নিয়মিত রাখুন খাদ্যতালিকায়। প্রোটিন ক্ষুধা কমায় এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে।
নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা সাইক্লিং করুন। এটি শুধু ক্যালরি পোড়ায় না, মেটাবলিজমও বাড়ায়।
পানি পান
প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারের আগে পানি খেলে ক্ষুধা কমে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম
৭-৮ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুম শরীরের মেটাবলিজম সঠিক রাখে। ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা বাড়ায়, ওজনও বাড়াতে পারে।
চিনি ও জাঙ্ক ফুড
কোলা, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি এসব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে লেবু পানি, ডাবের পানি বা তাজা ফলের রস বেছে নিন।
হোল গ্রেইন
ব্রাউন রাইস, ওটমিল, ভুষিসহ আটা এগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ, হজম ধীরে করে ও পেট ভরা রাখে।
খাবার অল্প অল্প করে খাওয়া
একবারে বেশি না খেয়ে ৫-৬ বেলা অল্প অল্প করে খান। এতে মেটাবলিজম সচল থাকে।
গ্রিন টি পান করুন
অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে।
শাকসবজি ও ফল বেশি খান
এগুলো ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর। পেট ভরবে, ক্যালরি বাড়বে না।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
ধ্যান, যোগব্যায়াম বা শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম স্ট্রেস কমায়। স্ট্রেস বেশি হলে ওজনও দ্রুত বাড়ে।
পোর্শন কন্ট্রোল
ছোট প্লেট ব্যবহার করুন, খাবার খাওয়ার সময় মনোযোগী থাকুন। এতে খাওয়ার পরিমাণ নিজে থেকেই কমবে।
সক্রিয় থাকুন
লিফট বাদ দিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, কাছাকাছি দূরত্বে হাঁটুন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে নড়াচড়া করুন।
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস
চিপস বা ফাস্ট ফুড নয়। বাদাম, ফল, দইয়ের মতো হালকা স্ন্যাকস বেছে নিন।
ওজন কমানো কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি একটি নিয়মিত অভ্যাস ও ধৈর্যের যাত্রা। ফ্যাশনেবল ডায়েটের মোহে না পড়ে যদি সুষম খাবার, ব্যায়াম, ঘুম আর স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলেন, তবে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আপনি পাবেন দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ, প্রাণবন্ত এক জীবন।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: পেকজেলসডটকম ও ফ্রিপিক