
আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অর্জিত অভিজ্ঞতা শোনা: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’। অর্থাৎ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যাঁরা লড়ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিপাদ্যটি মনে করিয়ে দেয়, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

প্রতিদিন বহু মানুষ মানসিক চাপ সামলে কাজ করেন। কেউ পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতে বিষণ্নতায় ভোগেন। কেউ এমন পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান, যা অন্যকে বোঝানো কঠিন। আবার অনেকে বুঝতে পারেন, তাঁরা ভালো নেই। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রেও সংকোচ কম নয়। অন্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয়, সমালোচনার আশঙ্কা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে অনেকে চুপ থাকেন। ফলে প্রয়োজন হলেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দেরি করেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে ৯২ শতাংশের বেশি চিকিৎসা পান না।
এই ব্যবধানের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা ও সামাজিকভাবে বদ্ধমূল কুসংস্কার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে, তা না জানার বিষয়টিও।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা অনেক সময় শুধু সমস্যার দিকটিই সামনে আনি। কিন্তু ভালো থাকাটাও মানসিক স্বাস্থ্যের অংশ। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজন হলে বিরতি নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করলে তা এড়িয়ে না যাওয়াও নিজের যত্নের অংশ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আগে অনেকেই পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সহায়তা নেওয়ার প্রথম ধাপটি অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে নয়, কাছের মানুষের থেকেই শুরু হয়।
২০১৩ সালে ইয়েশিম ইকবালের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে মানসিক সহায়তা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ হেল্পলাইন ‘কান পেতে রই’। মানসিক ও আবেগজনিত সংকটে থাকা মানুষের জন্য রয়েছে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম, ‘দ্য পার্পললাইন’। এখানে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একাকিত্ব কিংবা আত্মহত্যার প্রবণতায় ভোগা মানুষের কথা শোনেন সহমর্মিতার সঙ্গে। যে কেউ নির্ভয়ে ও মন খুলে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারেন। পরিচয় গোপন রেখে সহায়তা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে এখানে।
‘কান পেতে রই’ ও ‘দ্য পার্পললাইন’-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে সম্প্রতি ‘হিলিং কল’ নামের উদ্যোগ চালু করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। গার্ডিয়ানের কল সেন্টার ১৬৬২২ নম্বরে ফোন করে ৮ চাপলেই সেবাগ্রহীতারা ‘কান পেতে রই’ ও ‘দ্য পার্পললাইন’-এর পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারবেন যে কেউ।