ডিমের কুসুম কি সত্যিই ক্ষতিকর? নতুন গবেষণায় বদলে যাচ্ছে ধারণা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ডিম দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। প্রোটিন, শক্তি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত ডিম খান। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত অভ্যাস হলো ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়া।

হৃদ্‌রোগ ও পুষ্টি বিষয়ক গবেষক এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর ডায়েট নির্দেশিকা প্রণয়নে যুক্ত মার্কিন পুষ্টিবিজ্ঞানী অ্যালিস এইচ লিফস্টেইনস্টাইন মনে করেন, ডিমকে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস—বিশেষ করে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট—রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে।

পূর্ণ পুষ্টির জন্য পুরো ডিম

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের সাদা অংশে ভালো মানের প্রোটিন থাকলেও কুসুমে রয়েছে ডিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। অ্যালিস লিফস্টেইনস্টাইন বলেন, ডিম একটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার, যেখানে প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। কুসুমসহ পুরো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য পায়।

ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ত্বক, চোখ এবং মস্তিষ্কের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা চোলিন মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও কোষ গঠনে সহায়ক।

বিজ্ঞাপন

কোলেস্টেরল নিয়ে ভুল ধারণা

ডিমের কুসুম নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের কারণ হলো এতে থাকা কোলেস্টেরল। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল সবসময় সরাসরি রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ায় না। অ্যালিস লিফস্টেইনস্টাইন জানান, শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নির্ভর করে পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের কোষ গঠন, হরমোন উৎপাদন, মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খাওয়া সাধারণত সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

সৌন্দর্য ও সুস্থতার সম্পর্ক

পুষ্টিকর খাবার শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, সৌন্দর্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফলে আধুনিক লাইফস্টাইল ও সৌন্দর্যচর্চায় ডিমকে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই মূল চাবিকাঠি

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যে কোনো খাবারের মতো ডিমও পরিমিতভাবে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পুরো ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যচর্চা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই খাদ্য নির্বাচনেও সচেতনতা বাড়ছে। নতুন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামত বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ডিমের কুসুম নিয়ে যে ভয় কাজ করেছে, সেটি অনেকটাই ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখন সময় এসেছে ডিমকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার।

সূত্র: হার্বার্ট হেলথ

ছবি: পেকজেলসডটকম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন