২ নিয়ম না মানলে ৮ ঘন্টার দীর্ঘ ঘুমের পরেও দূর হবেনা অবসন্নতা, ঝিমুনি, মানসিক ক্লান্তি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ঘুমকে আরও গভীর ও পুনরুজ্জীবিত করতে সম্প্রতি দুটি বাস্তবসম্মত নিয়মের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন। তিনি স্লিপ মেডিসিন ও পেডিয়াট্রিক নিউরোলজির একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ঘুম ও স্নায়ুবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। ডিসেম্বর ২২ তারিখে প্রকাশিত একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি ঘুমের রুটিন ঠিক রাখার এই দুই মূল নিয়ম ব্যাখ্যা করেন।

শরীরের ভেতরে থাকা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়মিত সময়ের ওপর নির্ভর করে ঘুম ও জাগরণের সংকেত দেয়
শরীরের ভেতরে থাকা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়মিত সময়ের ওপর নির্ভর করে ঘুম ও জাগরণের সংকেত দেয়

ডা. অ্যালেনের মতে, মানুষের শরীর সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন সে ঘুমের একটি নিয়মিত  ছন্দের মধ্যে থাকে। আমাদের শরীরের ভেতরে থাকা ইন্টারনাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়মিত সময়ের ওপর নির্ভর করে ঘুম ও জাগরণের সংকেত দেয়। এই ছন্দে বারবার ব্যাঘাত ঘটলে ঘুমের মান নষ্ট হয়।

অনিয়মিত ঘুম কেন সমস্যার?

মানুষের শরীর নিয়ম ভালোবাসে
মানুষের শরীর নিয়ম ভালোবাসে

ডা. ক্রিস্টোফার অ্যালেন বলেন, “মানুষের শরীর নিয়ম ভালোবাসে। একদিন যদি রাত ১০টায় ঘুমান, আর পরের দিন রাত ১টায়, তাহলে শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন সে বুঝতে পারে না—এখন ঘুমের সময়, না জেগে থাকার।”

এই অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস থেকে দেখা দিতে পারে—

* ঘুম আসতে দেরি হওয়া

* রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া

* সকালে উঠে মাথা ভার লাগা

* সারা দিন ক্লান্ত ও মনোযোগহীন থাকা

এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নিয়ম এক: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা

সপ্তাহান্তে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস  সবচেয়ে ক্ষতিকর
সপ্তাহান্তে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস সবচেয়ে ক্ষতিকর

ভালো ঘুমের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হিসেবে ডা. অ্যালেন জোর দিয়েছেন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার ওপর। তাঁর মতে, ছুটির দিন হোক বা কর্মদিবস, প্রতিদিন জাগার সময় যদি একই থাকে, তাহলে শরীর ধীরে ধীরে সেই সময় অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে শেখে।

বিশেষ করে সপ্তাহান্তে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসকে তিনি সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। কারণ এতে সপ্তাহের অন্য দিনের সঙ্গে শরীরের ছন্দের বড় পার্থক্য তৈরি হয়, যা আবার ঘুমের চক্রকে এলোমেলো করে দেয়।

নিয়মিত সময় ধরে ঘুম থেকে উঠলে—

* সকালে ঝিমুনি কমে

* সারা দিন সতেজ ভাব থাকে

* রাতে সহজে ঘুম আসে

নিয়ম দুই: ঘুমের সময়ে বড় পরিবর্তন নয়

 ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে ওঠার সময়ে ৩০ মিনিটের বেশি পার্থক্য না রাখা
ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে ওঠার সময়ে ৩০ মিনিটের বেশি পার্থক্য না রাখা

দ্বিতীয় নিয়মটি হলো, ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে ওঠার সময়ে ৩০ মিনিটের বেশি পার্থক্য না রাখা। ডা. অ্যালেন বলেন, “ঘুম বা জাগরণের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন শরীরকে বিভ্রান্ত করে। এতে সে বুঝতে পারে না কখন তাকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”
যেমন, একদিন রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পরের দিন রাত ১টায় ঘুমানো। এই তিন ঘণ্টার পার্থক্য শরীরের ভেতরের ঘড়িকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দিতে পারে। এর ফলেই দেখা দেয় অনিদ্রা ও ক্লান্তি।

বিজ্ঞাপন

অল্প নিয়ম, বড় পরিবর্তন

এই দুই নিয়ম যদি টানা  মেনে চলা যায়, তাহলে অনেকেই ঘুমের মানে স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করবেন
এই দুই নিয়ম যদি টানা মেনে চলা যায়, তাহলে অনেকেই ঘুমের মানে স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করবেন

ডা. ক্রিস্টোফার অ্যালেনের মতে, এই দুই নিয়ম যদি টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহ মেনে চলা যায়, তাহলে অনেকেই ঘুমের মানে স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করবেন। এতে আলাদা কোনো ওষুধ বা জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। শুধু ধারাবাহিকতা ও সচেতনতা জরুরি।

ঘুম আসলে আমাদের শরীর ও মনের নীরব পুনরুদ্ধারের সময়। নিয়মিত ঘুমের রুটিন শুধু রাতের বিশ্রামই নয়, দিনের কর্মক্ষমতা, মানসিক স্থিরতা ও সামগ্রিক সুস্থতাকেও নতুনভাবে গড়ে তোলে। তাই আজ থেকেই যদি নিজের ঘুমের সময়কে একটু গুরুত্ব দেওয়া যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো জীবনের ছন্দে।

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ০০
বিজ্ঞাপন