
ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি২ একটি অপরিহার্য ভিটামিন। একে রিবোফ্লাভিনও বলে। এর স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হলো এটি কোষের কার্যকারিতা ঠিক রাখে, যা শরীরকে শক্তি সরবরাহ করে এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে দেয়। ভিটামিন বি২ একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।আর এমন পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয় এবং অতিরিক্ত হলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
আমাদেরকে প্রতিদিন ভিটামিন বি২ গ্রহণ করতে হবে। কারণ শরীর কেবল অল্প পরিমাণে এটি সঞ্চয় করতে পারে এবং এই সরবরাহ দ্রুত হ্রাস পায়। কোষ থেকে কোষে এই ভিটামিন পরিবাহিত হয় আর এর বেশিরভাগই ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়। রিবোফ্লাভিন কিছু খাবারে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। ক্রুসিফেরাস শাকসবজি ভিটামিনটির ভালো উৎস।

ভিটামিন বি২ প্রোটিন, চর্বি এবং কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে। এটি শরীরের শক্তি সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রিবোফ্লাভিন কার্বোহাইড্রেটকে অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট বা ATP তে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। মানবদেহ খাদ্য থেকে ATP উৎপন্ন করে এবং ATP শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি উৎপন্ন করে। পেশীতে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য যৌগটি অত্যাবশ্যক।
ভিটামিন বি২-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পাচনতন্ত্রের শ্লেষ্মা ঝিল্লি বজায় রাখা
লিভার সুস্থ রাখা
ট্রিপটোফ্যানকে নিয়াসিনে রূপান্তর করা
চোখ, স্নায়ু, পেশী এবং ত্বক সুস্থ রাখা
আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি১, বি৩ এবং বি৬ শোষণ এবং সক্রিয় করা
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি দ্বারা হরমোন উৎপাদন করা
ছানি পড়া রোধ করা
কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে ভিটামিন বি২ মাইগ্রেনের মাথাব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ভিটামিন বি২-এর উৎস
মাংস, মাছ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য, হাঁস-মুরগি, যেমন টার্কি, মুরগি, গরুর মাংস, কিডনি, লিভার, ডিম,গুড়, মাশরুম, বাদাম, কুমড়া, মিষ্টি আলু, ক্রুসিফেরাস শাকসবজি যেমন ব্রোকলি,ফুলকপি, পালং শাক।
কতটা গ্রহণ করা প্রয়োজন
ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য ভিটামিন বি২ এর সুপারিশকৃত দৈনিক পরিমাণ RDA হলো প্রতিদিন ১.৩ মিলিগ্রাম আর মহিলাদের জন্য এটি হলো প্রতিদিন ১.১ মিলিগ্রাম। গর্ভাবস্থায় মহিলাদের প্রতিদিন ১.৪ মিলিগ্রাম ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রতিদিন ১.৬ মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
রিবোফ্লাভিনের ঘাটতি হলে কী হয়
ভিটামিন বি২-এর অভাব থাকা ব্যক্তির সাধারণত অন্যান্য ভিটামিনেরও অভাব থাকে। রিবোফ্লাভিনের ঘাটতি অ্যারিবোফ্লাভিনোসিস নামেও পরিচিত।রাইবোফ্লাভিনের ঘাটতি দুই ধরণের।প্রাথমিকভাবে রাইবোফ্লাভিনের ঘাটতি ঘটে যখন খাদ্যে ভিটামিন বি২-এর অভাব থাকে।আবার অনেক সময় অন্ত্র ভিটামিনটি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, অথবা শরীর এটি ব্যবহার করতে পারে না, অথবা এটি খুব দ্রুত নিঃসৃত হয়।
ভিটামিন বি২-এর অভাবের লক্ষণ
ভিটামিন বি২ এর অভাব মুখের আলসার এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মুখের কোণে ফাটল, ফাটা ঠোঁট, শুষ্ক ত্বক, মুখের আস্তরণের প্রদাহ
জিহ্বার প্রদাহ, মুখের আলসার, লাল ঠোঁট, গলা ব্যথা, স্ক্রোটাল ডার্মাটাইটিস
মিউকাস মেমব্রেনে তরল পদার্থ, আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা
চোখ উজ্জ্বল আলোর প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে এবং চোখে চুলকানি, পানিপড়া বা লাল হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে

ঝুঁকি
সাধারণত, ভিটামিন বি২ নিরাপদ বলে মনে করা হয়। অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ করা অসম্ভব, কারণ শরীর প্রায় ২৭ মিলিগ্রাম পর্যন্ত রিবোফ্লাভিন শোষণ করতে পারে এবং এটি প্রস্রাবে অতিরিক্ত পরিমাণটুকু বের করে দেয়।অনেক ক্ষেত্রে বি২ সাপ্লিমেন্ট ওষুধের সঙ্গে রিয়্যাকশন করতে পারে এবং বি২ সাপ্লিমেন্ট কিছু ওষুধের কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ আর টেট্রাসাইক্লিন। গবেষণা বলে, খুব বেশি পরিমাণে ভিটামিন বি২ চুলকানি, অসাড়তা, জ্বালাপোড়া, হলুদ বা কমলা প্রস্রাব আর আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ভিটামিন বি২ পানিতে দ্রবণীয়, তাই রান্নায় এটি নষ্ট হতে পারে। সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।