ফিটনেস ধরে রাখতে দিনে ৩৫টি সাপ্লিমেন্ট খান কিম কারদাশিয়ান, এবার ‘পিল ফ্যাটিগ’-এ সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

কমেডিয়ান অ্যমি পোহলারের ‘গুড হ্যাং’ পডকাস্টে কিম বলেন, দিনে তিনবার ভাগ করে সাপ্লিমেন্টগুলো খান তিনি। তবে এত বেশি ক্যাপসুল খেতে খেতে একসময় তিনি ভুগতে শুরু করেন ‘পিল ফ্যাটিগ’-এ।

কিমের ভাষায়, “ফিশ অয়েল ক্যাপসুল আর খেতে পারছিলাম না। পরে রক্ত পরীক্ষা করে বুঝলাম, সেটি বন্ধ করার প্রভাব শরীরে স্পষ্টভাবে পড়েছে। তখন আবার শুরু করতে হয়েছে।”

এমনকি তিনি মজার ছলে বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে যদি ‘আইভি ড্রিপ’-এর মাধ্যমে এসব সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেত, তাহলে তার জন্য আরও সহজ হতো।

শুধু সাপ্লিমেন্ট নয়, কিম জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার নিয়মিত ডেক্সা (DEXA) স্ক্যানও করান। এই স্ক্যান মূলত শরীরের বোন ডেনসিটি ও ফ্যাট-কম্পোজিশন পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। কিম জানান, তাদের গেটেড কমিউনিটিতে একটি ভ্রাম্যমাণ স্ক্যান ভ্যান আসে, যেখানে তিনি, তার মা ক্রিস জেনার এবং বোনেরা কয়েক মিনিটেই পুরো শরীর স্ক্যান করিয়ে নেন।

এর আগেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন কিম। ২০২৫ সালে তার রিয়েলিটি শোতে তিনি জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ এআরআই (MRI) স্ক্যানের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে দীর্ঘদিনের একটি অ্যানিউরিজম ধরা পড়ে। এরপর থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে আরও সচেতন হয়ে ওঠেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। মার্কিন নেফ্রোলজিস্ট ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে প্রকৃত ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট লিভার ও কিডনির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নেফ্রোলজিস্ট ডা. জোয়েল কপল্যান্ডের মতে, “অনেকেই মনে করেন বেশি সাপ্লিমেন্ট মানেই বেশি স্বাস্থ্যসুরক্ষা। বাস্তবে বিষয়টি উল্টোও হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন বা মিনারেল শরীরে জমে গিয়ে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন– যেমন এ, ডি, ই ও কে নিয়ে সতর্ক করছেন। এগুলো শরীরে জমে থেকে দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবার অতিরিক্ত জিঙ্ক গ্রহণ করলে কপারের ঘাটতি এবং বেশি ক্যালসিয়াম আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আমেরিকান ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ ডা. মেলিসা রিফকিন বলেন, “সাপ্লিমেন্ট কখনোই স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চার বিকল্প হতে পারে না। এগুলো সহায়ক হতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা শরীরের জন্য ভালো নয়।”

চিকিৎসকদের মতে, ‘পিল ফ্যাটিগ’ এখন বাস্তব একটি সমস্যা। প্রতিদিন অসংখ্য ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাওয়ার মানসিক চাপ, বমিভাব, হজমের সমস্যা কিংবা ক্লান্তি থেকে এই অবস্থা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে মানুষ ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণেই অনীহা বোধ করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরে ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সাপ্লিমেন্ট নেওয়াই যথেষ্ট। সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি এখনও সেই পুরোনো বিষয়গুলো চর্চার মাধ্যেই রয়েছে। অর্থাৎ সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই সুস্থতা অর্জন করা সম্ভব।

সূত্র: পিপল, গুড হ্যাং পডকাস্ট

ছবি: কিম কারদাশিয়ানের ইন্সটাগ্রাম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১২: ১৫
বিজ্ঞাপন