
অনেকের সকাল শুরু হয় একই খাবার দিয়ে। কেউ ওটস খান, কেউ ডিম-টোস্ট, আবার কেউ প্রতিদিনই সিরিয়াল বা রুটি। ব্যস্ত জীবনে একই নাশতা বেছে নেওয়া যেমন সুবিধাজনক, তেমনি অনেকের কাছে এটি স্বস্তিরও বিষয়। কিন্তু প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া কি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, নাকি ক্ষতিকর?

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্যও বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অর্থাৎ প্রতিদিন একই ধরনের ওটস খাওয়া ক্ষতিকর নয়, কিন্তু কখনও ফল বদলানো, কখনও বাদাম বা বীজ বদলানো। এ ধরনের ছোট পরিবর্তন অন্ত্রের জন্য আরও ভালো হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদরা বলেছেন, প্রতিদিনের নাশতায় ওটস, দই, চিয়া সিডস, বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফল, শিমজাতীয় খাবার এবং নানা ধরনের সবজি অন্তর্ভুক্ত করলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে একই খাবার খেলেও ফল, বাদাম বা বীজ পরিবর্তন করে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

হার্ভার্ড হেলথ জানিয়েছে, প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ায় সমস্যা নেই। তবে শুধু টোস্ট বা কফির মতো একঘেয়ে খাবারের বদলে নাশতায় পূর্ণ শস্য, ফল, বাদাম, বীজ, দই এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে হৃদ্স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি শরীরও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টিবিদদের মতে, ওটস একটি চমৎকার নাশতা, কারণ এতে থাকা ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো ওটসের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করাই ভালো। পাশপাশি প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য বদলে দিতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন ভালো হবে নাকি খারাপ, তা নির্ভর করবে নাশতার মানের ওপর।

বিশেষজ্ঞের ভাষায়, প্রতিদিন যদি ফাইবারসমৃদ্ধ নাশতা খাওয়া হয়, তাহলে অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো নিয়মিত পুষ্টি পায়। এতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে একটি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করে।
ওটস, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বীজ, তাজা ফল এবং পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা অন্ত্রের জন্য দারুণ উপকারী। আশ্চর্যের বিষয়, এমন খাদ্যাভ্যাসের ইতিবাচক প্রভাব কয়েক দিনের মধ্যেই অন্ত্রের অণুজীবের গঠনে দেখা যেতে পারে।

প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন একই ধরনের পুষ্টি খেতে হবে। বরং একই নাশতার মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ফাইবার থাকা জরুরি।
যেমন, ওটসের সঙ্গে চিয়া বীজ, তিসি বীজ, কাঠবাদাম, আখরোট, কলা, বেরিজাতীয় ফল কিংবা মৌসুমি ফল যোগ করলে নাশতাটি আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। এই বৈচিত্র্য অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর সংখ্যা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে প্রতিদিন যদি নাশতায় থাকে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি সিরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আগের দিনের জাঙ্ক ফুড, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
এ ধরনের খাবার অন্ত্রে এমন কিছু অণুজীবের বৃদ্ধি বাড়ায়, যেগুলো শরীরে প্রদাহ তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হজমের সমস্যা, শক্তির ঘাটতি এবং বিপাকীয় জটিলতার কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে প্রথম খাবারটি শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের প্রথম খাবার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে সক্রিয় হওয়ার সংকেত দেয়। তাই নিয়মিত সময়ে স্বাস্থ্যকর নাশতা খেলে হজমপ্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল থাকে।

অনেকেই ওজন কমানোর আশায় বা ব্যস্ততার কারণে নাশতা বাদ দিয়ে সরাসরি দুপুরে প্রথম খাবার খান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোও নিয়মিত সংকেত পায় না, ফলে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিদিনের নাশতায় রাখতে পারেন–
* ওটস বা লাল আটার তৈরি খাবার
* ডিম বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস
* বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ
* মৌসুমি ফল
* দই বা টক দই
* স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস, যেমন বাদাম বা বীজ
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া নিজে থেকে খারাপ অভ্যাস নয়। বরং যদি সেই নাশতায় পর্যাপ্ত ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, তাহলে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রতিদিনের সকালের প্লেটে শুধু পেট ভরানোর খাবার নয়, এমন খাবার রাখুন যা আপনার শরীরের পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী জীবাণুকেও সুস্থ রাখবে।
ছবি: পেকজেলসডটকম