
ভালো ঘুমের জন্য বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। বরং ছোট কিছু অভ্যাসই এনে দিতে পারে বড় পার্থক্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। কারণ মনে রাখতে হবে, ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামে থাকলেও ভেতরে চলে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠন। যেমন টিস্যু মেরামত, শক্তি ফিরে আসে, মানসিক প্রশান্তি।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখে। এতে ঘুম আসতে সময় কম লাগে এবং ঘুম হয় গভীর।

ঘরের তাপমাত্রা ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। একটু ঠান্ডা পরিবেশ শরীরকে দ্রুত রিলাক্স করে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। খুব গরম বা আর্দ্র পরিবেশ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
মানসিক চাপ ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। ঘুমানোর আগে হালকা মেডিটেশন, গভীর শ্বাস নেওয়া বা কিছুক্ষণ স্ট্রেচিং মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়। তাই ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখাই ভালো।
একটি অন্ধকার, নিরিবিলি ও আরামদায়ক ঘর ভালো ঘুমের জন্য অপরিহার্য। শব্দ, অতিরিক্ত আলো বা অস্বস্তিকর বিছানা। সবই ঘুমে বাধা তৈরি করতে পারে।

চা, কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা ক্যাফেইন ঘুমকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই সন্ধ্যার পর এসব পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রতিদিনের হালকা ব্যায়াম শরীরকে ক্লান্ত করে এবং রাতে ঘুম সহজ করে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

রাতের খাবার খুব ভারী হলে শরীর তা হজম করতে ব্যস্ত থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। প্রয়োজন হলে হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে।
ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজন। জীবনযাপনে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই আপনাকে এনে দিতে পারে গভীর, প্রশান্ত আর পুনরুজ্জীবিত এক নতুন সকাল।
ছবি: এআই