
৬০ পেরোলেই জীবন ধীর হয়ে যাবে—এ ধারণা এখন পুরোনো। সঠিক জীবনযাপন মেনে চললে জীবনের ৬ দশক পেরিয়েও আপনি থাকতে পারবেন চনমনে, সক্রিয়, এমনকি দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি করার মতো ফিট। বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়া অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের অভ্যাসের ওপর। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো।

১. নিয়মিত শরীরচর্চা, কিন্তু বুদ্ধিমানের মতো
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের শক্তি কমতে থাকে। তাই সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা সাঁতার খুব উপকারী। এর সঙ্গে সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা ওজন তোলা বা রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করলে পেশি শক্ত থাকে। যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং ভারসাম্য ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
২.পুষ্টিকর খাবার: পরিমাণে কম, কিন্তু গুণে ভরা
৬০-এর পর শরীরের ক্যালোরির চাহিদা কমে, কিন্তু পুষ্টির চাহিদা কমে না। পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন (ডাল, মাছ, ডিম, বাদাম)। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খান (দুধ, ছোট মাছ, রোদে থাকা)। আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফল, লাল চাল)। লবণ, চিনি ও অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে চলুন। পানি পান করুন পর্যাপ্ত। বয়স বাড়লে তৃষ্ণাবোধ কমে যায়, তাই সচেতন থাকতে হবে।

৩. ওজন ও কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ভুঁড়ি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ওজন মাপা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এসব নিয়মিত পরীক্ষা করলে অনেক রোগ আগেভাগে ধরা পড়ে। বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ভালো।

৫. মানসিক ফিটনেস সমান গুরুত্বপূর্ণ
শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও সচল রাখতে হবে। বই পড়া, নতুন কিছু শেখা, পাজল সমাধান, লেখালেখি বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা মানসিক তারুণ্য ধরে রাখে। একাকীত্ব বিষণ্নতা বাড়ায়—তাই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি।
৬. ঘুমের যত্ন
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম শরীরের কোষ মেরামত করে, স্মৃতি শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঘুমের নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখুন।
৭. খারাপ অভ্যাস ছাড়ুন
ধূমপান দ্রুত বার্ধক্য ডেকে আনে। এগুলো হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও লিভারের ক্ষতি করে। যত তাড়াতাড়ি ছাড়বেন, ততই উপকার।

৮. ইতিবাচক মনোভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকেন। বয়সকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করুন। নিজেকে প্রয়োজনীয় মনে করুন, জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখুন।
৬০ বছর কোনো শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু। শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক সক্রিয়তা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই চার স্তম্ভ যদি ঠিক থাকে, তবে বয়স কেবল সংখ্যা হয়েই থাকবে। আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করুন—তাহলেই ৬০ পেরিয়েও আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত, সক্রিয় আর আত্মবিশ্বাসী।
তথ্যসূত্র: ভেরি ওয়েল ফিট
ছবি: এআই ও পেকজেলস