
হাঁটা সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে কার্যকর একটি ব্যায়াম। শরীরচর্চার জন্য জিম বা বিশেষ যন্ত্রপাতি না থাকলেও নিয়মিত হাঁটলে তা স্বাস্থ্যের জন্য আশ্চর্যজনক সুফল বয়ে আনতে পারে। পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন জানিয়েছেন, দিনে মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা থেকে শুরু করে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হাঁটা,প্রতিটি স্তরেই রয়েছে এর ভিন্ন ভিন্ন উপকারিতা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের ১০ হাজার পদক্ষেপ সম্পন্ন করলে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মানসিক চাপ কমে। তবে তার আগেই যদি আপনার কাছে মনে হয় ১০ হাজার পদক্ষেপ অনেক বড় লক্ষ্য,সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট সময়ে হাঁটারও উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা রয়েছে। চলুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসি।

মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলে অনেকেই ভাবে এতে আবার কী হবে? কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ মিনিটের ছোট্ট এই হাঁটাই আপনার রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে খাওয়ার পর হাঁটলে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। শুধু তাই নয়, মন খারাপ হলে ১০ মিনিটের হাঁটাও আপনার মুডকে রিফ্রেশ করে দিতে পারে।

যদি আপনি প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা হাঁটেন, তবে আপনার হার্ট আপনাকে ধন্যবাদ দেবে। কারণ এই সময়ে শরীরের রক্তসঞ্চালন ভালো হয়, রক্তচাপ কমে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস পায়। পাশাপাশি মানসিক দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও ডিপ্রেশন কাটাতে ৩০ মিনিট হাঁটা যেন এক প্রাকৃতিক ওষুধ।

আপনি যদি একটু বাড়তি সময় বের করতে পারেন, তবে ৪০ মিনিট হাঁটার আলাদা উপকার আছে। এটি হাড়কে শক্তিশালী করে, ফলে ভবিষ্যতে হাড় ভাঙা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে যায়। শুধু তাই নয়, এই সময়ে মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি হয়, ফলে স্মৃতি ও সৃজনশীলতা বাড়ে। যারা পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজে যুক্ত, তাদের জন্য ৪০ মিনিট হাঁটা হতে পারে এ ক্ষেত্রে দারুণ সহায়ক।

এক ঘণ্টা হাঁটা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হয়, কিন্তু যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি সেরা অপশন। দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে ক্যালরি বার্ন হয়, শরীরের চর্বি কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ হ্রাস, ভালো ঘুম আর সারা দিন সতেজ থাকার জন্য এটি আমাদের শরীরে অসাধারণ কাজ করে।
শুধু কতক্ষণ হাঁটবেন তা নয়, কীভাবে হাঁটবেন সেটা জানাও জরুরি। এ বিষয়ে এআইআইএমএস ও হার্ভার্ড প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. সৈরভ সেঠি জানিয়েছেন জাপানের একটি বিশেষ কৌশল। সেটি হলো প্রথমে ৩ মিনিট ধীরে হাঁটতে হবে(ওয়ার্ম আপ)।এরপর ৩ মিনিট দ্রুত হাঁটতে হবে(যেন খুব জরুরি কোথাও যাচ্ছেন) এবং একদম শেষে ৩-৫ মিনিট ধীরে (কুল ডাউন) হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি ।এই মিক্সড প্যাটার্নে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেই ১০ হাজার পদক্ষেপের সমান উপকার পাওয়া যায়।
সর্বোপরি, হাঁটা হলো এমন এক সহজ ও প্রাকৃতিক ব্যায়াম যা কোনো জিম, যন্ত্র বা বড় খরচ ছাড়াই সবার জন্য সম্ভব। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু শারীরিক ফিটনেসই নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য আজ থেকেই হাঁটার পদক্ষেপ শুরু করা যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইম
ছবি: এআই