
ব্রিটেনের এনএইচএস সার্জন ও হেলথ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. করণ রাজান জানালেন, পানির সঙ্গে চিয়া খাওয়ার থেকেও স্মার্ট ও স্বাস্থ্যকর উপায় রয়েছে। আর তা হচ্ছে দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিডস মিশিয়ে খাওয়া।
ড. রাজানের মতে, দইয়ে রয়েছে জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া কালচার। যেমন ল্যাকটোবাসিলাস ও বিফিডোব্যাকটেরিয়া। যা প্রোবায়োটিকস হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে চিয়া সিডসে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার ও মিউসিলেজ প্রিবায়োটিকের কাজ করে। এই মিশ্রণ শরীরে এক ধরনের প্রাকৃতিক সিম্বায়োটিক প্রভাব তৈরি করে। দইয়ের প্রোবায়োটিকস ব্যাকটেরিয়া চিয়ার ফাইবারকে ফারমেন্ট করে শরীরে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (SCFA) তৈরি করে, যা হজমশক্তি বাড়াতে, প্রদাহ কমাতে ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে।

চিয়া সিডসে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ ফ্যাট-সোলিউবল যৌগগুলো শোষণ করতে দইয়ের ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিশেষ ভূমিকা রাখে। পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার তুলনায় দই মিশিয়ে খেলে এই পুষ্টিগুণ শরীরে আরও ভালোভাবে কাজে লাগে।

চিয়া সিডসের ফাইবার, দইয়ের প্রোটিন ও ফ্যাট একসঙ্গে কাজ করে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড (GLP-1), কোলিসিস্টোকাইনিন (CCK) ও PYY হরমোন নিঃসরণ বাড়ে, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাক্স খাওয়ার প্রবণতা কমে।

ড. রাজান জানান, শুধু পানিতে ভিজিয়ে খেলে চিয়া সিডস দ্রুত হাইড্রেট হয়ে কোলনে দ্রুত ফারমেন্ট হয়, ফলে অনেকের গ্যাস বা ফাঁপা পেটের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু দইয়ের প্রোটিন ও পেপটাইডের সঙ্গে খেলে ফারমেন্টেশন হয় ধীরে এবং সুষমভাবে। এতে বাটিরেট ও প্রোপিওনেটের মতো বহুবিধ শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অন্ত্রের জন্য আরও উপকারী।

চিয়া সিডসকে দইয়ের সঙ্গে মেশানোর জন্য বেশি কিছু করতে হয় না। দুই টেবিল চামচ চিয়া সিডস দইয়ে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। চাইলে মধু, ফল বা বাদাম যোগ করতে পারেন।
চিয়া ওয়াটার এখন ট্রেন্ড হলেও, ড. করণ রাজানের মতে দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিডস খাওয়াই হল আরও বুদ্ধিদীপ্ত ও পুষ্টিকর উপায়। এতে প্রোবায়োটিক-প্রিবায়োটিকের প্রাকৃতিক সংমিশ্রণ, বাড়তি পুষ্টি শোষণ, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সব একসঙ্গে মেলে। সুপারফুড চিয়া সিডসকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগাতে চাইলে আজ থেকেই শুরু করতে পারেন এই স্বাস্থ্যকর কম্বিনেশন।
সূত্র: হেলথ লাইন
ছবি: পেকজেলসডটকম