এনভিডিয়া এখন বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন কোম্পানি, একসময় বাসন মাজার চাকরি করা সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের মোট সম্পদ কত
শেয়ার করুন
ফলো করুন

এআই টাইটান বলা হয় মূলত চিপ উৎপাদন কোম্পানি হিসেবে পরিচিত এনভিডিয়াকে। আর অফিসিয়ালি এখন এনভিডিয়াই বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন কোম্পানি। মাত্র তিন মাস আগে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির এই কোম্পানিটি ৪ বিলিয়ন পার হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম হিসেবে।

এখন এনভিডিয়াই বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন কোম্পানি
এখন এনভিডিয়াই বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন কোম্পানি
এনভিডিয়ার কাণ্ডারী জেনসেন হুয়াংয়ের নামও এই মাইলফলক অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে
এনভিডিয়ার কাণ্ডারী জেনসেন হুয়াংয়ের নামও এই মাইলফলক অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে

আর এনভিডিয়ার কাণ্ডারী জেনসেন হুয়াংয়ের নামও এই মাইলফলক অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে। তিনি বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সিইও। তিনি একজন সহপ্রতিষ্ঠাতাও। আর জেনসেনের টেক জিনিয়াস গুণাবলী, মার্কেট জয়ের দূরদর্শিতা আর নেতৃত্ব প্রদানের শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিনয়ী স্বাব আর অতীতকে ভুলে না যাওয়ার প্রবণতাই তাঁকে আলাদা করে অন্যান্য টেক মোগলদের থেকে। তিনি বারবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রথম জীবনে বাসন মাজা আর ওয়াশরুম ধোয়ার চাকরির কথা বলেন। আর সেখানে থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোম্পানির প্রধান হওয়ার গল্পটি আসলে যে কারও জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী।

বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন হঠাৎ এনভিডিয়ার এই উত্থান? নতুন এই রেকর্ড ছোঁয়ার ঘটনা আরও ভালোভাবে প্রকাশ করছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উন্মাদনা প্রযুক্তি জগতে কতটা বড় এক পরিবর্তন আনছে। অনেকেই মনে করছেন স্টিভ জবস ১৮ বছর আগে প্রথম আইফোন উন্মোচনের পর থেকে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লব এটি। এর আগে আইফোনের সাফল্যকে পুঁজি করে অ্যাপল ক্রমান্বয়ে প্রথম পাবলিক কোম্পানি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন, ২ ট্রিলিয়ন এবং শেষে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যমান অর্জন করে।

এনভিডিয়ার ঐতিহাসিক উত্থান ও অর্জন
এনভিডিয়ার ঐতিহাসিক উত্থান ও অর্জন
এনভিডিয়ার বাজারমূল্য এখন ভারত, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপি-র চেয়েও বেশি
এনভিডিয়ার বাজারমূল্য এখন ভারত, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপি-র চেয়েও বেশি

তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, হয়তো একটি আনরিয়েল এআই বাবল তৈরি হচ্ছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর শেয়ারবাজারের এই উল্লম্ফন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) প্রধানও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এনভিডিয়ার চিপের বিপুল চাহিদাই মূলত কারণ যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২০২৩ সালের শুরু থেকে এত দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, এনভিডিয়ার বাজারমূল্য এখন ভারত, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপি-র চেয়েও বেশি।

বিজ্ঞাপন

তবে যে যাই বলুক, জেনসেন হুয়াং এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন টেক দুনিয়ায়। সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছেন এনভিডিয়াকে। তিনি নিজেও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, তিনি এখন বিশ্বের নবম ধনী বিলিয়নিয়ার।

সপ্তাহে ১৭ বিলিয়ন আর বছরজুড়ে ৫১ বিলিয়ন বেড়েছে জেনসেনের নেট ওয়ার্থ
সপ্তাহে ১৭ বিলিয়ন আর বছরজুড়ে ৫১ বিলিয়ন বেড়েছে জেনসেনের নেট ওয়ার্থ

গত সপ্তাহে ১৭ বিলিয়ন আর বছরজুড়ে ৫১ বিলিয়ন বেড়ে গিয়ে এই চাইনিজ-আমেরিকান প্রযুক্তি মোগলের সম্পদের মূল্যমান এখন ১৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বিশ্বের এই অন্যতম ধনী ব্যক্তি জেনসেন হুয়াং অভাবনীয় সাফল্যের গল্প বলার সময় কখনোই নিজের শিকড় বা শুরুর জীবনের কথা বলতে ভয় পান না।

তিনি স্ট্রাইপের সিইও প্যাট্রিক কলিসনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বলেন,“আমি নানা রকমের কাজ করেছি, আর আমরা এমন এক স্কুলে পড়তাম যেখানে অনেক ঘরের কাজও করতে হতো।” হুয়াং জানান, তাঁর বাবা-মা ধনী ছিলেন না। তাঁদের প্রভাব ও কেন্টাকির বোর্ডিং স্কুল এই দুটোই তাঁকে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছিল। ওনাইডা ব্যাপ্টিস্ট ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্যবাহী এক ডরমিটরিতে থাকার অভিজ্ঞতার গল্প করতে গিয়ে, হুয়াং বলেন,“যেসব ছাত্র বড় ক্লাসে ছিল, তাদেরকে খামারে কাজের মতো কষ্টকর কাজ দেওয়া হতো, আর আমার ভাগে পড়েছিল সব বাথরুম পরিষ্কার করা।” তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “ওই দৃশ্য আপনি ভুলতে পারেন না। কিন্তু সেটাই ছিল আমার কাজ, আর আমি সেটা আনন্দের সঙ্গেই করতাম,\" আর তখন তিনি ছিলেন মাত্র ৯ বছরের এক বালক।

বাসন মাজার চাকরি থেকে শুরু করে জেনসেন হুয়াং এখন এই অবস্থানে
বাসন মাজার চাকরি থেকে শুরু করে জেনসেন হুয়াং এখন এই অবস্থানে

হুয়াং প্রায়ই তাঁর ডেনির রেস্টুরেন্টে কাজ করার দিনগুলোর কথা বলেন। তাঁর কথার মূল বার্তাটি হলো, তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং কঠিন কাজগুলোতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়েছেন। কৈশোরে তিনি প্রথমে বাসন ধোয়ার কাজ শুরু করেন, পরে বাসবয় এবং শেষমেশ ওয়েটার হন। তাঁর কথা, “যে কাজই করতাম না কেন, আমি চাইতাম সেটা যেন যতটা সম্ভব ভালোভাবে করি।” তিনি মজা করে বলেন, তাঁর বোর্ডিং স্কুলের অভিজ্ঞতার জোরে তিনি “বিশ্বের সেরা বাথরুম পরিষ্কারক” হয়েছিলেন। পরে ডেনির রেস্টুরেন্টই তাঁর জন্য স্টিভ জবসের গ্যারেজের মতো জায়গা হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ভবিষ্যৎ সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস মালাচোস্কি এবং কার্টিস প্রিয়েমের। কফির কাপ আর “মুনস ওভার মাই হ্যামি” স্যান্ডউইচের আড্ডায় সেখানেই এনভিডিয়ার ধারণা জন্ম নেয়।

পরবর্তী কয়েক দশকে এনভিডিয়া দ্রুত উত্থান ঘটায়, আর এই বছর তাদের এআই চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। হুয়াং তাঁর যাত্রা ও অর্জন নিয়ে গর্বিত। তিনি বলেন, “দেখুন, আমি একসময় বাথরুম পরিষ্কার করতাম, আর এখন আমি এক কোম্পানির সিইও।” তাঁর মতে, শেখার অযোগ্য কোনো কাজ নেই।

নিজের জীবনের গল্প প্রায়ই বলেন হুয়াং বিভিন্ন জায়গায়
নিজের জীবনের গল্প প্রায়ই বলেন হুয়াং বিভিন্ন জায়গায়

স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার কাছে কোনো কাজই নিচু নয়। মনে রাখবেন, আমি একসময় বাসন মেজেছি, টয়লেট পরিষ্কার করেছি, অনেক টয়লেট পরিষ্কার করেছি। তোমাদের সবার মিলেও যতগুলো পরিষ্কার করো, তার চেয়েও বেশি।”তারপর হেসে বলেন, “এই তো জীবন।”

সূত্র: ইয়াহু ফিন্যান্স, বিবিসি

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮: ৪৩
বিজ্ঞাপন