কিবোর্ডে টাইপ করে নয় হাতে লিখলে বাড়বে মনোযোগ হবে মস্তিষ্কের ব্যায়াম
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ডিজিটাল যুগে যেখানে কিবোর্ডে আঙুলের ছোঁয়াতেই হয় সব কাজের সমাধান, সেখানে সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে এক ভিন্ন কথা। হাতে কলম তুলে লেখা আর সেকেলে নয়। বরং এর মাধ্যমে হয় মস্তিষ্কের পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম। গবেষকেরা জানিয়েছেন, হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কের অনেকগুলো অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়, যা টাইপ করার সময় হয় না।

মস্তিষ্কে কী ঘটে?

গবেষণায় দেখা গেছে, হাতে লেখা নোট নেওয়ার সময় মস্তিষ্কের যে অংশগুলো কাজ করে তার মধ্যে আছে মটর স্কিল, স্মৃতি সংরক্ষণ, ভাষা বোঝা ও ভিজুয়াল প্রসেসিং। অন্যদিকে, টাইপ করার সময় মূলত আঙুলের পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সক্রিয় হয়। অর্থাৎ, টাইপিং কম পরিসরে মস্তিষ্ককে কাজ করায়, যেখানে হাতে লেখা অনেক বেশি গভীরভাবে মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে।

শেখা ও স্মৃতিতে এর প্রভাব

কলম দিয়ে অক্ষর আঁকার সময় আমরা আসলে চিন্তাকে শারীরিক রূপ দিই। প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি বাঁক মস্তিষ্কে এক নতুন সংযোগ তৈরি করে, যা স্মৃতি ও বোঝাপড়াকে দৃঢ় করে। এজন্যই দেখা যায়, যারা হাতে নোট নেয়, তারা পরীক্ষায় বা আলোচনায় বিষয়বস্তু বেশি মনে রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মনোযোগ ও সৃজনশীলতায় হাতের লেখা

হাতে লেখার একটি ধীর গতি আছে, যা চিন্তাকে থামতে ও ভাবতে শেখায়। এই ‘ধীর প্রক্রিয়াই মনোযোগ ও আত্মমন্থনের জন্ম দেয়। টাইপিং যেখানে দ্রুততার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে হাতে লেখা আমাদের ভাবনাকে গভীর করে এবং সৃজনশীল চিন্তা বাড়ায়।

শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনায় হাতে লেখা অন্তর্ভুক্ত করা শেখার দক্ষতা ও মনোযোগ বাড়ায়। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি মানসিক ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে, যা বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা মনোযোগহীনতা কমাতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল জীবন থেকে একটু বিরতি

ডিজিটাল স্ক্রিনের জগৎ থেকে বের হয়ে  হাতে লেখা এক ধরনের (মাইন্ডফুল অভ্যাস) mindful practice। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও স্ক্রিনের ভিড়ে কাগজে কলম ছোঁয়ানো মানে নিজের চিন্তার সঙ্গে নীরব সংলাপ। তাই হয়তো হাতে লেখা চিঠি, ডায়েরি বা নোট আজও এতটা ব্যক্তিগত ও অর্থবহ মনে হয়।

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কয়েক মিনিটের জন্য হলেও কিবোর্ড থেকে চোখ সরিয়ে নোটবুকে লিখে ফেলুন নিজের মনের কথা। কারণ হাতে লেখা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্য এক প্রাকৃতিক জিমনেশিয়াম।

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩৮
বিজ্ঞাপন