
প্রতিবছরের মতো ২০২৬ সালেও প্রকাশিত হয়েছে বহুল আলোচিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনমান, মানসিক স্বস্তি ও সামগ্রিক সুখের মাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়। এই প্রতিবেদনে মূলত আয়, সামাজিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা, দুর্নীতির মাত্রা এবং উদারতার মতো সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলনেস রিসার্চ সেন্টার থেকে প্রতি বছর এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফিনল্যান্ড এবারও প্রথম স্থানে। সর্বনিম্ন অবস্থান আফগানিস্তানের।

তবে এর চেয়েও যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইসরায়েল গত বছরের মতো এবারও টপ টেনে। দেশটি আছে ৮ম অবস্থানে।
এদিকে বাংলাদেশ গত বছরের ১৩৪তম অবস্থান থেকে ৭ ধাপ এগিয়ে এবার ১২৭-এ এসেছে। যদিও নর্ডিক দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে শীর্ষে ছিল, ২০২৬ সালে এক চমক দেখেছে বিশ্ব।

রিপোর্টের ১৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি লাতিন আমেরিকার দেশ শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। কোস্টা রিকা তার ধাপে ধাপে উন্নতির ধারাবাহিকতায় এবার চতুর্থ স্থানে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালে ২৩তম স্থানে ছিল।
এই র্যাংকিং প্রতিবছর গ্যালাপ, অক্সফোর্ড ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার ও ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন্স নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এখানে ১৪০টি দেশের মানুষ তাদের জীবনকে কেমন মনে করে তার তিন বছরের গড় এবং জিডিপি, সামাজিক সহায়তা, জীবনকাল, স্বাধীনতা অনুভব, উদারতা ও দুর্নীতির মাত্রার মতো বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় বছর ধারাবাহিকভাবে কোনো বড় ইংরেজিভাষী দেশ শীর্ষ ১০-এ উঠেনি; অস্ট্রেলিয়া ১৫তম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৩তম, কানাডা ২৫তম এবং যুক্তরাজ্য ২৯তম স্থানে রয়েছে।

২০২৬ সালে শীর্ষ পাঁচ দেশের প্রতিটিতে সুখের জন্য আলাদা বৈশিষ্ট্য কাজ করছে, যদিও সবাই জীবনে স্বাধীনতাই সুখের সঙ্গে বেশি জড়িত বলে মত দিয়েছেন।
১. ফিনল্যান্ড
২. আইসল্যান্ড
৩. ডেনমার্ক
৪. কোস্টা রিকা
৫. সুইডেন
৬. নরওয়ে
৭. নেদারল্যান্ডস
৮. ইসরায়েল
৯. লুক্সেমবার্গ
১০. সুইজারল্যান্ড
১. ফিনল্যান্ড
গত ১০ বছরে ৯ বার ফিনল্যান্ড প্রথম স্থানে রয়েছে। দেশটি সামাজিক সহায়তা ও কম দুর্নীতির কারণে বেশি স্কোর করে। শিক্ষাদান ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক নিরাপত্তা মানুষের মধ্যে সুরক্ষা ও সুখের অনুভূতি তৈরি করে।
২. আইসল্যান্ড
২০১৪ সাল থেকে প্রথমবার ডেনমার্ককে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইসল্যান্ড এসেছে। মাত্র ৪ লক্ষ মানুষের এই দ্বীপ রাষ্ট্র সামাজিক সহায়তায় শীর্ষে, অর্থাৎ সমস্যা আসলে এখানে কাউকে ভরসা করা যায়। এছাড়া জিডিপি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনকাল এবং উদারতায়ও এটি শীর্ষ ১০-এ রয়েছে।
৩. ডেনমার্ক
দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা ডেনমার্ক কখনোই চতুর্থ স্থানের নিচে নেমে যায়নি। এবছর এটি তৃতীয় স্থানে, সামাজিক সহায়তা ও কম দুর্নীতির ক্ষেত্রে তৃতীয় এবং জিডিপির হিসেবে সপ্তম। তবে এখানকার মানুষের সুখের অনুভূতি সব সময় প্রকাশ পায় না।
৪. কোস্টা রিকা
এবার চতুর্থ স্থানে ওঠা কোস্টা রিকা লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ শীর্ষ পাঁচে। স্বাধীনতা ও সামাজিক সহায়তার স্কোর ২০২১ সাল থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যদিও জিডিপি বা সরকারি সহায়তা নর্ডিক দেশগুলোর মতো উচ্চ নয়, দেশবাসী নিজের জীবনের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে অনুভব করে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এদেশের মানুষ তাদের জীবনকে সংখ্যাসূচকের ব্যাখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ভালো মনে করে।

৫. সুইডেন
এবার পঞ্চম স্থানে থাকা সুইডেন গত দশকে চতুর্থ থেকে দশম স্থানের মধ্যে ঘুরেছে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনকাল এবং কম দুর্নীতিতে যথাক্রমে সপ্তম ও পঞ্চম স্থানে। সুইডেনের শীর্ষ অবস্থান তার শহুরে জীবন ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার ভারসাম্যের কারণে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি, ফোর্বস, ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিসার্চ
ছবি: ইন্সটাগ্রাম ও এআই