
সন্তানের সঙ্গে কি সব বাবারই রোজ দেখা হয়? রোজ হয় খুনসুটি? না! এমনটা সব বাবা, সব সন্তানের জীবনে আসে না! কারও কারও অপেক্ষায় প্রহর কাটে! দুই বাসায় দুই বয়সের দুজন সময় গুনে ক্ষণ পার করে! তেমনই এক বাবা-মেয়ের গল্প আপনাদের বলব আজ। বাবা সুরকার এবং গায়ক খৈয়াম সানু সন্ধির একমাত্র মেয়ে সংস্কৃতি নূর সানু। তাঁদের দেখা হওয়ার সময় নির্ধারিত। ‘সিঙ্গেল ফাদার’ শব্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছি আমরা। এই সমাজ জানতে শিখেছে একা বাবা আর সন্তানের সুখের সময়ের কথা।

সুরকার এবং গায়ক খৈয়াম সানু সন্ধির একমাত্র মেয়ে সংস্কৃতি নূর সানু। বাবার সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব। বাবার সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই তাঁরা খেলে গেসিং গেম। সেদিন কোথায় যাওয়া হবে, কী করা হবে—সেটা নিয়ে এই খেলা। দুই ফুপুর বাসা তার বেশ পছন্দের। ফুপুদের আদরের নাম দিয়েছে সংস্কৃতি। ফুপু সভ্যতাকে ডাকে ফুতা আর সন্ধির খালাতো বোন স্বর্ণাকে ডাকে এফু বলে। তাঁদের বাসায় গেলে ফুপুদের আদরে আদরে সময় কাটে তার। অথবা দুজন মিলে পৌঁছে যায় সংস্কৃতির দাদুমণির বাসায়। সেখানে ঘরজুড়ে সংস্কৃতির খেলার মাঠ। দাদুমণিকে নিয়ে মেতে ওঠে আনন্দে। প্রাণ ফিরে আসে। খুশিতে ভরে যায় ঘর।
স্কুলে যায় সংস্কৃতি। নতুন নতুন অনেক কিছু শেখে। কখনো সেটা ম্যাজিক, কখনো নতুন কোনো ক্র্যাফট। যা-ই শেখে, বাবার জন্য তুলে রাখে মনের আলমারিতে। বাবাকে দেখলে দরজা খুলে যায়। একে একে সংস্কৃতি বাবাকে জানায় সব! বাবা সব মন দিয়ে দেখেন। শেখে ছোট্ট পুতুলের কাছে!

সংস্কৃতিকে বাবা স্পষ্ট উচ্চারণে ‘সংস্কৃতি’ বলেই ডাকেন। এর কারণ, ছোটবেলায় নাম উচ্চারণ কম করত সংস্কৃতি। অন্য আর পাঁচটা নামের থেকে ভিন্ন এই নাম উচ্চারণ একদম পানির মতো সহজ ছিল না সংস্কৃতির কাছে। তাই কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে চুপ করে থাকত সে। তখন থেকে বাবা তাকে স্পষ্ট উচ্চারণে ডাকেন। যাতে সংস্কৃতি নাম উচ্চারণ স্পষ্ট হয়। কোনো জড়তা না থাকে।
বাবার স্টুডিওর পিয়ানোতে টুং টাং সুর তোলে সংস্কৃতি। গুনগুনিয়ে গায় গান। আবার নাচেও মন আছে তার। একদিন হয়তো সংস্কৃতির বাবার কাছে আমরা সংস্কৃতির নাচের অথবা গানের গল্প শুনব! হয়তো সংস্কৃতি তার বাবাকে নিয়ে গাইবে কোনো গান! আমরা মুগ্ধ শ্রোতা হব!