
এমনিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর চাঁছাছোলা প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হতে পারে, পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মনে হয় আর্জেন্টিনাবিদ্বেষী। কিন্তু এদিকে পর্তুগালের এই ছেলে কিন্তু নিজের মনপ্রাণ দিয়ে বসে আছেন আর্জেন্টিনার মেয়েকেই। তাঁর ১০ বছরের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আর্জেন্টাইন-স্প্যানিশ বলা যায় এই সুন্দরী ওয়্যাগকে। ১৯৯৪ সালের ২৭ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে তাঁর জন্ম।

তাঁর বাবা হোর্হে রদ্রিগেজ ছিলেন আর্জেন্টাইন এবং মা আনা মারিয়া হার্নান্দেজ স্প্যানিশ। ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় তিনি স্পেনের উত্তরাঞ্চলের শহর জাকায় বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং জীবিকার জন্য বিভিন্ন কাজ করার পর ফ্যাশন জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
কীভাবে পরিচয় হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে?
জর্জিনা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম দেখা হয় ২০১৬ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড গুচির একটি আউটলেটে। সে সময় জর্জিনা সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। রোনালদো দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। পরে দুজনের আবার দেখা হয় একটি ডলচে অ্যান্ড গ্যাব্বানা ফ্যাশন ইভেন্টে। সেখান থেকেই অর্থাৎ দ্বিতীয় আলাপ থেকেই তাঁদের কথাবার্তা ও যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে।


জর্জিনা পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি্তে বলেন, প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে একটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
প্রেমের গল্পের টাইমলাইন
২০১৬
মাদ্রিদে প্রথম পরিচয়। বছরের শেষের দিকে তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেতে থাকে এবং ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁদের প্রেমের খবর প্রকাশিত হয়।
২০১৭
রোনালদো ও জর্জিনা তাঁদের প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনাকে স্বাগত জানান। একই সময়ে জর্জিনা রোনালদোর আগের সন্তানদের দেখাশোনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে তিনি পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন।

২০১৮
রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দিলে পুরো পরিবার তুরিনে চলে যায়। নতুন দেশে গিয়েও জর্জিনা পরিবার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন।
২০২১
এই দম্পতি ঘোষণা করেন যে তাঁরা যমজ সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। খবরটি বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আনন্দিত করে।
২০২২
এপ্রিল মাসে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাঁদের ছেলে সন্তান মারা যায়, তবে কন্যাসন্তান বেলা এসমেরালদা সুস্থভাবে জন্ম নেয়। এটি তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। রোনালদো ও জর্জিনা প্রকাশ্যে জানান, পরিবারের ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁদের সেই শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।


২০২৩–বর্তমান
রোনালদো সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর পুরো পরিবার রিয়াদে বসবাস শুরু করে। জর্জিনা মডেলিং, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।

সংসার ও পারিবারিক জীবন
যদিও রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন, এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো দেননি, তবুও তাঁরা বহু বছর ধরে একসঙ্গে সংসার করছেন। জর্জিনা শুধু তাঁদের নিজেদের সন্তানদেরই নয়, রোনালদোর আগের সন্তানদেরও নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন।

পরিবারকেন্দ্রিক জীবন, একসঙ্গে ভ্রমণ এবং সন্তানদের নিয়ে সময় কাটানোর নানা মুহূর্ত তাঁরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেন।
কিছু মজার ও আকর্ষণীয় তথ্য
প্রথম পরিচয়ের সময় জর্জিনা ছিলেন গুচি স্টোরের কর্মী, আর আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফ্যাশন আইকন ও ইনফ্লুয়েন্সার।
রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর অতিরিক্ত ভিড় ও গণমাধ্যমের আগ্রহের কারণে জর্জিনাকে সেই স্টোরের চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে তিনি পরে জানান।
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্স সিরিজে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং রোনালদোর পরিবারের অংশ হয়ে ওঠার গল্প বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে।

রোনালদো একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, জর্জিনা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট এবং সন্তানদের জন্য একজন অসাধারণ মা।
যদিও তাঁদের বাগদানের পর থেকে বিয়ের গুঞ্জন প্রায়ই শোনা যায়, ২০২৬ সাল পর্যন্ত দুজনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দেননি। তবুও তাঁরা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও দীর্ঘস্থায়ী সেলিব্রিটি দম্পতি হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: হোলা, গ্রাজিয়া
ছবি: ইন্সটাগ্রাম