
সম্প্রতি পিকইওরট্রায়েল-এর এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, জেন জি দম্পতিরা এখন প্রচলিত বিলাসী ভ্রমণের বদলে খুঁজছেন অভিজ্ঞতাভিত্তিক, ব্যক্তিগত ও অর্থবহ যাত্রা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘এখনকার দম্পতিরা শুধু সুন্দর কোনো জায়গায় যেতে চান না। তারা চান এমন এক ভ্রমণ, যা তাদের গল্পের মতো, তাদের নিজেদের মতো।”

সমীক্ষায় চেনা ইউরোপ বা মালদ্বীপের পাশাপাশি উঠে এসেছে নতুন কিছু নাম, ভিয়েতনাম ও দুবাই এখন তরুণ দম্পতিদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরের ভ্রমণকারীদের মাঝেও ভিয়েতনামের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, মূলত স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের অভিজ্ঞতার জন্য। তবে বালি, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের আকর্ষণ এখনো অটুট।

আগের মতো এখন আর “একই রকম” প্যাকেজে ভরসা রাখছেন না কেউ। গড়পড়তা হানিমুন বাজেট এখন ১-২ লাখ টাকা, তবে যারা কিউরেটেড অভিজ্ঞতা চান তারা গুনছেন ৩-৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে একটু সচ্ছল তরুণেরা রয়েছে এই নতুন ট্রেন্ডের সামনের সারিতে।

‘একটি হানিমুন মানে একটি গল্প’ এই ভাবনায় ভর করে জেন জেড দম্পতিরা এখন পছন্দ করছেন এমন সব কার্যক্রম যা তাদের সম্পর্কের মতোই ব্যক্তিগত ও অর্থবহ। কেউ যাচ্ছেন কাপল কুকিং ক্লাসে, কেউবা নিজেদের হাতে বানাচ্ছেন রুপার আংটি। কেউ আবার স্থানীয় ওয়েলনেস রিট্রিট বা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি জানার কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।

আগের মতো পাঁচ রাতের ফরম্যাট এখনো জনপ্রিয়, তবে সেই সময়ের উপযোগীতায় এসেছে বৈচিত্র্য। অনেকেই এখন রিসোর্টের ঘেরাটোপ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন স্থানীয় গলিতে, একসঙ্গে নতুন কোনো স্বাদ চেখে দেখতে বা কোনো অচেনা গানের তালে নাচতে।

আগের প্রজন্ম যেখানে আরাম আর নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন, সেখানে জেন জেড দম্পতিরা খুঁজছেন সংযোগ ও সত্তা। নিজেদের, সঙ্গীর, আর পৃথিবীর সঙ্গে। হয়তো এটাই নতুন যুগের রোমান্স। যেখানে ভালোবাসা মানে শুধু ছবির মতো নিখুঁত মুহূর্ত নয়, বরং এমন অভিজ্ঞতা যা বহু বছর পরও মনে থাকে।
সূত্র: পিকইওরট্রায়েল
ছবি: এআই