
পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে সাধারণত নারীদেরই ভুক্তভোগী হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু বাস্তবে পুরুষরাও স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। অত্যাচারী বা নির্যাতনকারী স্ত্রী কথাটা খুব বেশি শোনা যায় না বা একে অনেকসময় কৌতুকচ্ছলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই অনেকেই মনে করেন পুরুষরা সেভাবে নির্যাতনের শিকার হন না। কিন্ত বাস্তব চিত্রটি আসলে এমন নয়।

নির্যাতন অনেকরকম হয়। আর কেউ পুরুষ নির্যাতনের শিকার হলেও আমরা ৭টি লক্ষণ দেখেও না দেখার ভান করি। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা বুঝতেই পারেন না যে তাঁরা নিয়ন্ত্রণ বা নির্যাতনের মধ্যে আছেন। বুঝলেও সমাজের ভয় বা লজ্জার কারণে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেন। যাঁরা স্ত্রীর কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাঁরা দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পান না কোথাও।
সম্পর্ক-বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন ৯টি সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো একজন নির্যাতনকারী স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়।
১. বারবার ছোট করা বা অপমান করা
আপনার স্ত্রী যদি বারবার কারণে-অকারণে আপনাকে ছোট করেন বা অপমান করেন, হোক তা একান্তে বা সবার সামনে, তাহলে এটি মানসিক নির্যাতনের লক্ষণ হতে পারে। এতে আপনার আত্মসম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।

২. জীবনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা
আপনি কী পরবেন, কার সঙ্গে মিশবেন সবকিছু যদি এককভাবে আপনার স্ত্রী ঠিক করে দেন আর সবসময় নিজের মতামত আপনার ওপরে চাপিয়ে দেন, তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। এতে আপনি অসহায় ও বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন।
৩. শারীরিক সহিংসতা বা হুমকি
আপনার স্ত্রী যদি মারধর করেন বা আঘাত করার হুমকি দেন, এটি স্পষ্ট নির্যাতন। এটি শারীরিক ক্ষতি, মানসিক ট্রমা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। অনেক সময় এই মানসিক নির্যাতন কাউকে কাউকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৪. অতিরিক্ত হিংসা ও অধিকারবোধ
অতিরিক্ত হিংসা ও অধিকারবোধ দেখিয়ে আপনার স্বাভাবিক ও স্বাধীন জীবন ব্যহত করছেন তিনি? অকারণে সন্দেহ করা, আপনাকে দোষারোপ করা এসব আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।
৫. বন্ধু ও পরিবার থেকে দূরে রাখা
আপনার স্ত্রী যদি আপনাকে আপনার বন্ধু ও পরিবার থেকে জোরপূর্বক আলাদা করে রাখেন, তাহলে আপনি একা ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন, যা নির্যাতনের অংশ।
৬. আপনার কাজকর্ম নজরদারি করা
সবসময় আপনার ফোন, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া অনুমতি ছাড়া চেক করার মতো কাজগুলো স্বাভাবিক নয়। এগুলোও নিয়ন্ত্রণমূলক ও নির্যাতনস্বরূপ আচরণ।

৭. নিজের ক্ষতি করার ভয় দেখানো
যদি আপনার স্ত্রী আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বা নিজের মত অনুযায়ী পরিচালনা করার জন্য নিজের ক্ষতি করা এমনকি আত্মহত্যার হুমকি দেন, তাহলে এটি গুরুতর মানসিক নির্যাতন।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন—আপনি একা নন। সাহায্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু, পরিবার বা পেশাদারদের সহায়তা নিলে আপনি আবার নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। আর এই ৭টি লক্ষণ যদি সবসময় পরিলক্ষিত হয়, তবে তা দেখেও না দেখার ভান করলে আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে বিপর্যয়।
তথ্যসূত্র: ম্যানকাইন্ড ইনিশিয়েটিভ, হেলথলাইন
ছবি: পেকজেলস