
ডেটিংয়ের দুনিয়ায় “ইক” শব্দটা এখন বেশ পরিচিত। যে মুহূর্তে কারও প্রতি আগ্রহ হঠাৎ করেই কমে যায়, তখনই এই শব্দটি ব্যবহার করেন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন কারণ, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার।
শুনতে অবাক লাগলেও, অনেকের কাছেই এখন আকর্ষণহীনতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহার।

ডেটিং অ্যাপে আলাপ, সবকিছু ঠিকঠাক। কিন্তু হঠাৎ জানা গেল, প্রোফাইলের বায়োটি নিজে না লিখে এআই দিয়ে তৈরি। অনেকের কাছেই এটিই সম্পর্কের শুরুতেই ‘না’ বলার জন্য যথেষ্ট। কারণটা সহজ—যদি কেউ নিজের অনুভূতি বা পরিচয়টুকুও নিজে প্রকাশ করতে না পারে, তাহলে সম্পর্কের জায়গায় সে কতটা আন্তরিক হবে? এই প্রশ্নটাই এখন অনেকের মনে জায়গা করে নিচ্ছে। আর জেন–জি জেনারেশনের মনোভাব নিজেকে স্বকীয় ভাবে উপস্থাপন বা প্রকাশ করা।

আজকের দিনে এআই আমাদের জীবনের নানা ক্ষেত্রে সাহায্য করছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা তৈরি হচ্ছে তখনই, যখন এটি আমাদের ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাটিও দখল করে নিচ্ছে।
কেউ যদি কী বলবে, কীভাবে কথা বলবে, এমনকি কীভাবে অনুভব করবে—সবকিছুর জন্য এআই-এর ওপর নির্ভর করে, তাহলে তা অনেকের চোখে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা মানসিক অপরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়।

শুধু নতুন সম্পর্ক নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও এই বিষয়টি অস্বস্তি তৈরি করছে। কেউ কেউ বলছেন, তাদের সঙ্গী এমনকি তর্কের সময়ও কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটি এআই থেকে জেনে নেয়।
এতে সম্পর্কের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায়। কারণ, সম্পর্কের সৌন্দর্যটাই হলো বাস্তব অনুভূতি, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। যা কোনো অ্যালগরিদম দিয়ে তৈরি হয় না।

অনেকেই আবার এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও চিন্তিত। প্রযুক্তির এই ব্যবহারে যে পরিমাণ শক্তি ও সম্পদ লাগে, সেটিও কিছু মানুষের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তাদের মতে, শুধু নিজের সুবিধার জন্য এমন একটি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা, যার প্রভাব বৃহত্তর পরিবেশের ওপর পড়ে—এটিও ভাবনার বিষয়।

সবাই কিন্তু একভাবে বিষয়টিকে দেখছেন না। কিছু মানুষের জন্য, বিশেষ করে যারা সামাজিক যোগাযোগে কিছুটা ভিন্নভাবে চিন্তা করেন বা বোঝেন, তাদের জন্য এআই একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে।
কেউ কেউ এটি ব্যবহার করেন কথোপকথনের সূক্ষ্ম অর্থ বুঝতে বা নিজেকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে। তবে তারাও মনে করেন, এটি সহায়ক হতে পারে—কিন্তু বিকল্প নয়।

প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, সম্পর্কের মূল ভিত্তি এখনও একই—আন্তরিকতা, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং নিজস্ব চিন্তা।
ডেটিংয়ের দুনিয়ায় তাই প্রশ্ন এখন একটাই: আপনি কি নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করতে প্রস্তুত, নাকি সবকিছু ছেড়ে দিচ্ছেন প্রযুক্তির হাতে?
কারণ, শেষ পর্যন্ত মানুষ খোঁজে মানুষকেই—কোনো প্রোগ্রাম বা যন্ত্রকে নয়।
ছবি: এআই