ইচ্ছা করেই কেন নিঃসন্তান ছিলেন এই নিভৃতচারী দম্পতি? শেষ হয়ে গেল বলিউডের সবচেয়ে আবেদনময়ী আইটেম গার্লের সিক্রেট লাভস্টোরি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বলিউডের প্রেমের গল্প মানেই সব সময় আলো, রোমান্স আর সুখের সমাপ্তি নয়। কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় দীর্ঘ অপেক্ষা, জটিল পরিস্থিতি আর সামাজিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে।

কাজের সূত্রে পরিচয় থেকে,  শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক গড়িয়েছিল বিয়েতে
কাজের সূত্রে পরিচয় থেকে, শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক গড়িয়েছিল বিয়েতে

অভিনেত্রী অরুণা ইরানি ও পরিচালক কুকু কোহলির সম্পর্কও তেমনই এক গল্প, যার শুরু হয়েছিল কাজের সূত্রে পরিচয় থেকে, আর শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছিল বিয়েতে।

বিজ্ঞাপন

অরুণা ইরানি বলিউডে অভিনয় শুরু করেন খুব অল্প বয়সে। নাচ, অভিনয়—দুই ক্ষেত্রেই নিজের জায়গা তৈরি করতে তৈরি করতে তিনি একসময় হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ।

অরুণা ইরানি বলিউডে অভিনয় শুরু করেন খুব অল্প বয়সে
অরুণা ইরানি বলিউডে অভিনয় শুরু করেন খুব অল্প বয়সে

নায়িকা হিসেবে যেমন কাজ করেছেন, তেমনি পরবর্তী সময়ে চরিত্রাভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী হিসেবেও পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

বিভিন্ন আইটেম গানে তাঁর আবেদনময় লুক এখনও আইকনিক হয়ে আছে
বিভিন্ন আইটেম গানে তাঁর আবেদনময় লুক এখনও আইকনিক হয়ে আছে

বিভিন্ন আইটেম গানে তাঁর আবেদনময় উপস্থিতি আর আকর্ষণীয় লুকে এখনও আইকনিক হয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

বলিউডের সবচেয়ে আবেদনময়ী আইটেম গার্লের সিক্রেট লাভস্টোরির সমাপ্তি ঘটল কাল ২৫ আগস্ট তাঁর স্বামী ও পরিচালক কুকু কোহলির মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বলে জানা যায়।

কুকুর শেষ বিদায়ে অরুণার ছবিগুলো সবার চোখ ভেজাচ্ছে
কুকুর শেষ বিদায়ে অরুণার ছবিগুলো সবার চোখ ভেজাচ্ছে

কুকুর শেষ বিদায়ে অরুণার ছবিগুলো সবার চোখ ভেজাচ্ছে। ইচ্ছা করেই নিঃসন্তান ছিলেন এই নিভৃতচারী দম্পতি। তাই স্বামী কুকুর মৃত্যুর পর একাই হয়ে গেলেন অরুণা। তিনি কুকু কোহলির দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের প্রেম ও বিয়ের গল্পটি বেশ জটিল।

সম্পর্কের জটিল পথ

অরুণা ইরানি নিজেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁদের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুর সঙ্গে সম্পর্ক যখন তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি মোটেও সহজ ছিল না। কুকু তখন বিবাহিত ছিলেন। আর প্রথম প্রথম পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার শুরুতেও অরুণা জানতেনই না এই তথ্যটি । এই সব টানাপোড়েন অরুণার প্রেমের গল্পকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ তিনি জানতেন, যে মানুষটির প্রতি তাঁর টান তৈরি হয়েছে, তাঁর জীবনে আগে থেকেই একটি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধা, অপরাধবোধ ও সামাজিক চাপ—সবই ছিল। অরুণা পরে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই চাননি তাঁর কারণে অন্য একটি সংসার ভেঙে যাক। কিন্তু সম্পর্কটিও শেষ পর্যন্ত তাঁরা অস্বীকার করতে পারেননি।

বিভিন্ন টানাপোড়েন অরুণার প্রেমের গল্পকে আরও জটিল করে তোলে
বিভিন্ন টানাপোড়েন অরুণার প্রেমের গল্পকে আরও জটিল করে তোলে

প্রেম থেকে বিয়ে

সময়ের সঙ্গে কুকুর আগের দাম্পত্যজীবনের অবসান ঘটে। এরপর অরুণা ও কুকু নিজেদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন। ১৯৯০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। অরুণার জীবনের এই সিদ্ধান্ত ছিল বেশ ব্যক্তিগত এবং সচেতন। বলিউডের মতো প্রচারনির্ভর জগতে থেকেও তিনি নিজের ব্যক্তিজীবনকে দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত কৌতূহল থেকে দূরে রেখেছেন। তাঁদের বিয়ের গল্পের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—এটি কোনো রূপকথার মতো প্রেম ছিল না। বরং অনেক বাস্তব জটিলতার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছিল তাঁদের সম্পর্ক।

কেন সন্তান নেননি তাঁরা?

অরুণা ইরানির ব্যক্তিজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মাতৃত্ব। তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। পরবর্তীতে অরুণা নিজের কাজ, পরিবার এবং স্বামীর সঙ্গে জীবন কাটানোতেই মন দেন। মাতৃত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। তিনি একাধিকবার বলেছেন, জীবনের সব সিদ্ধান্ত একই বয়সে বা একই পরিস্থিতিতে নেওয়া সম্ভব নয়। এরপর একবার টাইমস অব ইন্ডিয়াতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুণা বলেন, চল্লিশে বিয়ের পরে সন্তানদের সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপের বিষয়টিও ভাবিয়েছিল তাঁকে। এটিও সন্তান না নেওয়ার কারণ বলে তিনি জানান। মজা করে এও বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েদেরকে দেখলে তাঁর মনে হয় তাদের আচরণ তিনি সহ্য করতে পারতেন না ও সেদিক থেকে ভালোই হয়েছে।

কুকুর সঙ্গে অরুণার সম্পর্ক কেমন ছিল?

দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের পরও অরুণা ও কুকু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলেননি। অরুণার কথায় বোঝা যায়, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে যেমন ভালোবাসা ছিল, তেমনি ছিল বোঝাপড়া ও বাস্তবতার স্বীকৃতি। বলিউডে যেখানে তারকাদের প্রেম-বিয়ে প্রায়ই প্রচারের অংশ হয়ে ওঠে, সেখানে অরুণা ও কুকু বরং নিজেদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত রাখার পথ বেছে নিয়েছেন। অরুণা পরে যখন তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিনের কথা বলেছেন, তখন স্পষ্ট হয়েছে, এই বিয়ে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং দীর্ঘ সময়ের পরিচয়, আবেগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

‘অন্য নারীর স্বামী’ থেকে জীবনসঙ্গী

অরুণা-কুকুর গল্পের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে মানবিক দিকটি এখানেই। কুকু যখন অরুণার জীবনে আসেন, তখন তিনি বিবাহিত। তাই তাঁদের সম্পর্কের শুরু নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু অরুণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সংসার ভাঙতে চাননি। শেষ পর্যন্ত কুকুর আগের দাম্পত্যের অবসান এবং তাঁদের নিজেদের সম্পর্কের সিদ্ধান্তের পরই তাঁরা বিয়ে করেন।

শেষ হয়ে গেল বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে আবেদনময়ী আইটেম গার্লের অন্যরকম লাভস্টোরি
শেষ হয়ে গেল বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে আবেদনময়ী আইটেম গার্লের অন্যরকম লাভস্টোরি

এই জায়গাতেই তাঁদের গল্পটি বলিউডের প্রচলিত ‘নায়ক-নায়িকার প্রেম’-এর গল্প থেকে আলাদা। এখানে ছিল দ্বিধা, অপেক্ষা, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সবকিছুই। আর প্রাণপ্রিয় মানুষটির চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে আবেদনময়ী আইটেম গার্লের অন্যরকম লাভস্টোরি।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০৭
বিজ্ঞাপন