
আদিতি রাও হায়দরি ও সিদ্ধার্থের সম্পর্কের গল্পে যেন সিনেমার মতোই। আছে আকস্মিক শুরু, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, প্রস্তাব আর শেষ পর্যন্ত বিয়ের পর নতুন করে একসঙ্গে পর্দায় ফেরা। ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর জন্য তাদের জুটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হতেই পুরোনো সেই প্রেমকাহিনিও ফিরে এসেছে সামনে।

তাদের গল্পের শুরু ২০২১ সালে, তেলুগু সিনেমা ‘মহা সমুদ্রম’-এর সেটে। প্রথম দেখাতেই সিদ্ধার্থ আদিতিকে বলেছিলেন, “হ্যালো, বিউটিফুল গার্ল।” আদিতির নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, কথাটি অন্য সময় হয়তো খানিকটা চেনা বা সিনেমাটিক শোনাতে পারত। কিন্তু সিদ্ধার্থের স্বাভাবিক আন্তরিকতায় সেটিই আলাদা হয়ে মনে গেঁথে যায়।

এরপর তাদের সম্পর্ক এগোয় বন্ধুত্ব আর আড্ডার মধ্য দিয়ে। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সিদ্ধার্থ পরিবেশটাকে হালকা রাখতে পছন্দ করতেন। এমনকি আদিতির টিমের জন্য নিয়মিত ঘি-ইডলি পাঠানোর ঘটনাটিও সেই সময়ের ছোট অথচ মনে রাখার মতো স্মৃতি হয়ে আছে।

শুরুর দিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনতে খুব একটা তাড়াহুড়া করেননি দুজন। একসঙ্গে দেখা যাওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন মুহূর্ত থেকে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে বেশ কিছুটা আড়ালেই রেখেছিলেন।

২০২২ সালের দিকে তাদের সম্পর্ক জনসমক্ষে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে দুজনের কথাবার্তায় বরাবরই ছিল স্বাভাবিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি। ভোগ ইন্ডিয়ার ২০২৪ সালের একটি প্রোফাইলে তাদের সম্পর্কের যে ছবি উঠে আসে, সেখানে ছিল দুষ্টুমি, গান, ভ্রমণ আর একে অন্যের সঙ্গ উপভোগ করার সহজ স্বাচ্ছন্দ্য।

সিদ্ধার্থের প্রপোজালও ছিল তাদের সম্পর্কের মতোই একটু আলাদা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মজা করে এক হাঁটু গেড়ে বসতেন, যেন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন। তারপর জুতার ফিতা ঠিক করার ভান করে উঠে পড়তেন। ফলে যখন সত্যিই তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন, আদিতির মনে প্রথমে প্রশ্ন জাগে, এবারও কি সেই পুরোনো মজা? এবার অবশ্য মজা নয়, সত্যিই ছিল প্রস্তাব।

২০২৪ সালের মার্চে তাদের বাগদানের খবর সামনে আসে। কয়েক মাস পরই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। তেলেঙ্গানার ওয়ানাপারতি জেলার শ্রী রঙ্গনায়কস্বামী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় তাদের বিয়ে। আদিতির পরিবারের সঙ্গে জায়গাটির বিশেষ সম্পর্ক থাকায় এই স্থানটি তাদের জন্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

বিয়ের আয়োজনও ছিল বেশ ব্যক্তিগত। বড় কোনো তারকাখচিত আয়োজনের বদলে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে বিয়ে করেন তারা। দুজনের পরনেই ছিল সব্যসাচীর পোশাক।

২০২৬ সালে গল্পটা যেন আবার ফিরে এসেছে শুরুর জায়গায়, অর্থাৎ পর্দায়। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর একটি সেগমেন্টে একসঙ্গে অভিনয় করছেন আদিতি ও সিদ্ধার্থ। তাদের বাস্তব জীবনের পরিচিতি ও রসায়ন এবার যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এক গল্পের সঙ্গে।

এই ছবিতে তাদের পর্দার সম্পর্ককে আদিতির চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানোর দিকটিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ফলে বাস্তব জীবনে ইতিমধ্যে বহু পথ পেরিয়ে আসা এই জুটির পর্দার রসায়নও পেয়েছে নতুন মাত্রা। একসময় ‘মহা সমুদ্রম’-এর সেটে যে দুজন অভিনেতার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ ‘হ্যালো’ দিয়ে, তারাই আজ স্বামী-স্ত্রী। আর এখন সেই একই জুটি আবার ক্যামেরার সামনে। ভিন্ন চরিত্রে, ভিন্ন গল্পে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে পুরোনো সেই পরিচিত রসায়ন।

আদিতি রাও হায়দরি ও সিদ্ধার্থের গল্প তাই শুধু একটি তারকা-জুটির প্রেমকাহিনি নয়। এটি এমন এক সম্পর্কের গল্প, যেখানে বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে বদলে গেছে ভালোবাসায়, আর বাস্তব জীবনের সেই সম্পর্ক আবার ফিরে এসেছে সিনেমার পর্দায়।