কে এই ফাতিমা নাসরাউই, যাঁর কথামতো প্রতি ম্যাচের আগে-পরে দোয়া করতে ভোলেন না ইয়ামাল
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। ফাইনালে শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর একদিকে চলছিল স্পেনের সেলিব্রেশন, অন্যদিকে পরাজয়ের হতাশায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা। এই দুই বিপরীত দৃশ্যের মাঝেই ইয়ামালকে দেখা যায় মাঠে হাঁটু গেড়ে দোয়া করতে। ম্যাচের শুরুতেও মাঠে প্রবেশ করার আগে তিনি এভাবেই দোয়া করেছেন।

এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছেন তাঁর দাদি ফাতিমা নাসরাউই। কিছু গণমাধ্যমে তাঁকে ফাতিমা রোমানি নামেও উল্লেখ করা হয়। ইয়ামাল পরিবারের অন্যতম অভিভাবক ও শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্পেনের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের শুরু থেকেই ইয়ামাল ও তাঁর দাদি ফাতিমার গভীর সম্পর্ক এবং তাঁর সংগ্রামী জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এক ভিডিওতে ফাতিমা বলেন, তিনি সব সময় নাতিকে ম্যাচের আগে ও পরে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে বলেন, আর ইয়ামালও কখনো তাঁর কথা অমান্য করেন না।

ফাতিমার ভাষায়, ‘আমি ইয়ামালকে বড় করেছি। সে সব সময় আমার কথা শোনে।’
বিশ্বকাপের ফাইনালসহ বিভিন্ন ম্যাচে ইয়ামালের আচরণে সেই শিক্ষার প্রতিফলন স্পষ্ট। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সংগ্রামী নারীর জীবনের গল্প।

বিজ্ঞাপন

ত্যাগ আর সংগ্রামের জীবন

বহু বছর আগে পরিবারের জন্য ভালো ভবিষ্যতের আশায় একাই মরক্কো ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান ফাতিমা নাসরাউই। ইয়ামাল জানিয়েছেন, তাঁর দাদি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মরক্কো থেকে একটি বাসে উঠে আলহেসিরাস ও গ্রানাডা হয়ে শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাতালোনিয়ার মাতারো শহরে পৌঁছেছিলেন।

পরিবারের জন্য ভালো ভবিষ্যতের আশায় একাই মরক্কো ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান ফাতিমা নাসরাউই
পরিবারের জন্য ভালো ভবিষ্যতের আশায় একাই মরক্কো ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান ফাতিমা নাসরাউই
ইয়ামাল পরিবারের অন্যতম অভিভাবক ও শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত তিনি
ইয়ামাল পরিবারের অন্যতম অভিভাবক ও শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত তিনি

স্পেনে পৌঁছে তিনি স্প্যানিশ ভাষা জানতেন না। জীবনের শুরুটা ছিল চরম কষ্টের। মেঝেতে বিছানা পেতে ঘুমাতেন। পরিবারের সদস্যদের স্পেনে নিয়ে আসার জন্য পরিচর্যাকারী এবং শরণার্থী শিবিরে কাজসহ দিনে তিনটি পর্যন্ত শিফটে কাজ করেছেন তিনি। সেই অর্থ জমিয়ে তিনি নিজের সন্তানদের, যাঁদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনিরও ছিলেন, মরক্কো থেকে স্পেনে নিয়ে আসেন। তখন মুনিরের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

ইয়ামালের জীবনে দাদির প্রভাব

ইয়ামালের বয়স যখন তিন বছর, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তাঁর বাবা আবার ফাতিমার সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন। রোকাফোন্দা এলাকায় বেড়ে ওঠা ইয়ামালের শৈশব গড়ে তোলা এবং তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে দাদির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়ামালের শৈশব গড়ে তোলা এবং তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে দাদির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ইয়ামালের শৈশব গড়ে তোলা এবং তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে দাদির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ফাতিমা জানিয়েছেন, মাঠে নামার আগে তিনি সব সময় ইয়ামালকে সাফল্য ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করতে বলেন। এই অভ্যাসই মাঠে ইয়ামালের একাগ্রতা এবং তাঁর পরিচিত সেলিব্রেশনগুলোর সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি গোল ও জয়ের পর মাঠেই সেজদা করেন। আর তাঁর এই বিশ্বাস দাদি ফাতিমার কাছ থেকেই গড়ে ওঠা।

তিনি গোল ও জয়ের পর মাঠেই সেজদা করেন
তিনি গোল ও জয়ের পর মাঠেই সেজদা করেন
এই সেলিব্রেশন  রোকাফোন্দা এবং তাঁর দাদির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক
এই সেলিব্রেশন রোকাফোন্দা এবং তাঁর দাদির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক

গোল করার পর আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ দেখানোর মাধ্যমে ইয়ামাল তাঁর এলাকার পোস্টাল কোড ০৮৩০৪–এর শেষ তিনটি সংখ্যা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, এই সেলিব্রেশন রোকাফোন্দা এবং তাঁর দাদির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

দাদির জন্য নতুন বাড়ি

দাদির আজীবনের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের বড় আয়ের একটি অংশ দিয়ে রোকাফোন্দায় তাঁর জন্য একটি আধুনিক ও আরামদায়ক বাড়ি কিনে দেন ইয়ামাল। বিভিন্ন ফটোশুট এবং মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তিনি প্রায়ই দাদিকে সঙ্গে নিয়ে যান।

মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তিনি প্রায়ই দাদিকে সঙ্গে নিয়ে যান
মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তিনি প্রায়ই দাদিকে সঙ্গে নিয়ে যান

দাদি-নাতির এই মমতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্যও এক অনন্য উদাহরণ। এটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি পরিবার। পরিবারের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের পরামর্শ ও আশীর্বাদ অনেক সময় সাফল্যের পথকে আরও সহজ করে দেয়।

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০১: ১৫
বিজ্ঞাপন