
ফুটবল বিশ্বের নতুন বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের এই উইঙ্গার অল্প বয়সেই তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি আর ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতার কারনে বিশ্বমঞ্চে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপের কন্টেন্ডার হিসেবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সেরা ১৬ এর লড়াইয়ে নেমেছে তাঁর দল আজ রাতে৷ আর সবার চোখ ইয়ামালের দিকেই৷ তিনি শুধু এফ সি বার্সেলোনা বা স্পেন জাতীয় দলের স্পেনের তারকা নন, তিনি নতুন প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের আইডলও। সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই তারকা।

তবে বড় ভাই লামিনেকে ছাপিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে লামিনের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। লামিনের পোস্ট ও শেয়ার করা ভিডিও আর ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কী অসম্ভব ভালোবাসা আর বন্ডিং আছে এই দুই ভাই আর অসমবয়সী বন্ধুর। দুষ্টু-মিষ্টি কেইন তার মজার মজার কান্ডকারখানা আর সোয়্যাগ ও স্টাইল দিয়ে বড় ভাই লামিনের চেয়েও জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে যেন।
বয়সে অনেক ছোট হলেও কেইন ইতিমধ্যেই ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে নিজের স্বতঃস্ফূর্ততা, দুষ্টুমি আর শিশুসুলভ সরলতায়। লামিনের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন ভিডিও প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

কখনও দেখা যায়, সে গলফ খেলার চেষ্টা করছে আর না পেরে মজার সব রাগারাগি করছে; কখনও আবার বড় ভাইয়ের সতীর্থদের নাম বলার চেষ্টা করছে নিজের মজার উচ্চারণে। নিজের খেলনা গাড়ি চালাচ্ছে আপন মনে।
আর সেখানেই লুকিয়ে আছে কেইনের আকর্ষণ। সে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করে না, বরং একেবারে স্বাভাবিক থাকে। ভুল উচ্চারণ, অদ্ভুত মুখভঙ্গি, আর নিষ্পাপ আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে দর্শকরা যেন খুঁজে পান এক নির্মল আনন্দ।
আজকের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াজগতে, যেখানে প্রায় সবকিছুই কৌশল আর নিয়ন্ত্রিত উপস্থাপনায় ঘেরা, সেখানে কেইন ইয়ামাল যেন এক টুকরো নির্মল শৈশব। তাঁকে দেখলে বোঝা যায়, তারকা খেলোয়াড়দের জীবনও শেষ পর্যন্ত পরিবারের উষ্ণতা, হাসি আর ছোট ছোট মুহূর্ত দিয়েই পূর্ণ হয়।
লামিনে ইয়ামালের জন্যও কেইন শুধু ছোট ভাই নয়; এই শিশুটি তাঁর জীবনের সেই অনুপ্রেরণা, যে মাঠের চাপ, প্রত্যাশা আর আলোচনার বাইরে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ মনে করিয়ে দেয়।

কোটি মানুষের নজরের কেন্দ্রে থাকা একজন তারকার কাছেও পরিবারের এই ছোট্ট সম্পর্কগুলো অমূল্য। ভক্তদের কাছেও কেইন এখন শুধু “তারকার ভাই” নয়। সে নিজের মতো করেই পরিচিতি তৈরি করছে। একটি মজার ভিডিও, একটি ভুল উচ্চারণ, কিংবা একটি হাসি কখনও কখনও এতটুকুই যথেষ্ট মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে।
হয়তো এ কারণেই কেইন ইয়ামালকে দেখে মানুষ শুধু হাসে না, মায়াও অনুভব করে। কারণ তার মধ্যে আছে শৈশবের সেই নির্মল সৌন্দর্য, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেকেই হারিয়ে ফেলি। ফুটবল মাঠে লামিনে ইয়ামাল জাদু দেখান বল পায়ে। আর মাঠের বাইরে ছোট্ট কেইন ইয়ামাল জাদু ছড়ায় এক চিলতে হাসিতে।


তবে তাদের পারস্পরিক বন্ডিং, গভীর ভালোবাসা অথচ চেহারার স্পষ্ট অমিল দেখে সবাই কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। আসলে কেইন লামিনের সৎ ভাই। তাদের দুজনেরই মা শিলা ইবানা৷ কিন্তু লামিনের বাবা ছিলেন মরোক্কান। নাম মুনির নাসারোই। গিনি দ্বীপপুঞ্জের মেয়ে শিলা মুনিরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সম্পর্কে জড়ান ও বিয়ে করেন। সেই ঘরেই জন্ম হয় কেইনের। লামিনে এখন এই পরিবারেরই সদস্য ও তাদের সবার মাঝে আছে গভীর পারিবারিক বন্ধন।


কেইনকে অত্যন্ত ভালোবাসেন লামিনে৷ একই সঙ্গে কেইন ও লামিনের সৎবাবার জীবনের বড় অংশ এই তরুণ ফুটবল তারকা। আর মা শিলা সবসময় লামিনের ফুটবল ক্যারিয়ার গড়তে অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা করেছেন। তাই লামিনের জীবনেও মা, সৎ বাবা আর সৎ ভাই কেইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এক সাক্ষাৎকারে লামিনে বলেছেন, 'আমি যে শৈশব পাইনি সেটা আমি আমার ভাইকে দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।' আর কেইনের কান্ডকারখানা দেখে তো কোনোই সন্দেহ নেই যে সে এক দারুণ জীবন কাটাচ্ছে। আর মাতিয়ে রাখছে সবাইকে সামাজিক মাধ্যমে।
সূত্র: এসেনশিয়ালি স্পোর্টস, উইকিপিডিয়া
ছবি: ইন্সটাগ্রাম