তরুণ উদ্যোক্তা জান্নাতুলের মানবিক ক্যাফে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গাজীপুরের আব্দুল আলী সেবাশ্রমের নারীপুরুষের মুখে চওড়া হাসি। তাঁদের এই হাসির কারণ ওরেন্ডা ক্যাফের তরফ থেকে পাওয়া অপ্রত্যাশিত উপহার। শীতবস্ত্রসহ কিছু প্রয়োজনীয় মাসিক বাজার তাঁরা উপহার হিসেবে পেয়েছেন। উপহারগুলোর সবই এসেছে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স থেকে। যারা এভাবে সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আর সেই সঙ্গে নানামুখী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মানুষের পাশে দাঁড়ায় ক্যাফেটি বিভিন্নভাবে
মানুষের পাশে দাঁড়ায় ক্যাফেটি বিভিন্নভাবে

এটুকু পড়ে মনে হতে পারে, ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স বুঝি কোনো সামাজিক সংগঠন বা দাতব্য সংস্থা। তেমনটা ভাবলে ধারণাটা ভুল। ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স আসলে একটি ক্যাফে। রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাফের কর্ণধার ত্রিশ বছর বয়সী জান্নাতুল ফেরদৌস। ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন জান্নাতুল। এখন ক্যাফে চালানোর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্স করছেন। তিনি এর আগে সবশেষ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছিলেন। কাজটি ছেড়ে তিনি উদ্যোক্তা হন। গড়ে তোলেন ইকোফ্রেন্ডলি ক্যাফে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স। তাঁর এই উদ্যোগে বিনিয়োগ করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মঞ্জুর মিয়া। ক্যাফে দাঁড় করানো থেকে শুরু করে পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স ক্যাফেতে জান্নাতুল
ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স ক্যাফেতে জান্নাতুল

উদ্যোক্তা হবেন—এই স্বপ্ন স্নাতকের শিক্ষার্থী থাকার সময়ই জান্নাতুল দেখতেন। তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল, তিনি আগেই ভেবে রেখেছিলেন, স্রেফ ব্যবসা নয়; মানবিক, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনাও হবে তাঁর এই উদ্যোগের লক্ষ্য। উপযুক্ত সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, বললেন তিনি। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আগে থেকে। অবশেষে ২০২৪ সালে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়। ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স ক্যাফেতে বর্তমানে ১০ জন পূর্ণকালীন কর্মী আছেন। এ ছাড়া আছেন বেশ কয়েকজন ফ্রিল্যান্স কর্মী।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই ক্যাফেটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে। এখন মাসে ক্যাফেটির মুনাফা প্রায় লাখ টাকা। মুনাফার একটি অংশ মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করেন জান্নাতুল। তিনি বলেন, আমরা প্রবীণ নিবাসে সহায়তা করি। সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য কাজ করি। দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। সবশেষ কুমিল্লা-ফেনীর বন্যায় আমরা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করি। জান্নাতুলের ক্যাফেটি আর দশটা ক্যাফের মতো নয়। এখানে মাঝেমধ্যেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আসে। ক্যাফে থেকে তাদের বিনা মূল্যে খাবার দেওয়া হয়। বিভিন্ন উপলক্ষে ক্যাফেতে যে অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন হয়, তার মধ্যমণি থাকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।

ওরেন্ডা ক্যাফের মধ্যমণি এই শিশুরা
ওরেন্ডা ক্যাফের মধ্যমণি এই শিশুরা

জান্নাতুল জানালেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানবসেবা, সমাজসেবায় যুক্ত আছেন। শুরুর দিকে বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানবিক ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন। করোনাকালে তিনি মাস্ক-স্যানিটাইজার সংগ্রহ করে তা বিতরণ করেছেন। লকডাউন চলাকালে দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষকে সাধ্যমতো খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। তাঁর এই কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবিক-সামাজিক সেবামূলক কাজ করার ইচ্ছা আছে জান্নাতুলের। তিনি বলেন, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক চাহিদা, মানসিক বিকাশ, শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের কারুশিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করার পরিকল্পনা আছে তাঁর।

জান্নাতুলের সপ্নের ক্যাফে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স
জান্নাতুলের সপ্নের ক্যাফে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স
এই ক্যাফের মাধ্যমেই নানা মানবিক কাজে যুক্ত থাকতে চান এভাবে জান্নাতুল
এই ক্যাফের মাধ্যমেই নানা মানবিক কাজে যুক্ত থাকতে চান এভাবে জান্নাতুল

জান্নাতুল তাঁর ক্যাফেটিকে নিছক ব্যবসামুখী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান না। তিনি তাঁর ক্যাফেকে মানবিক সেবা ও সামাজিক সম্পর্কের একটি সম্মিলন কেন্দ্র হিসেবে গড়তে চান। এই যেমন তিনি সম্প্রতি এক চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে  যাঁরা আছেন, আপনাদের বার্থডেতে ওরেন্ডা অ্যান্ড বিন্স থেকে একটা কফি ও ব্রাউনি আমার তরফ থেকে ট্রিট থাকবে! চলে আসবেন ওরেন্ডাতে, ওকে!

ছবি: লেখক

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২: ০০
বিজ্ঞাপন