
যারা বহুদিন ধরে এই জীবনযাপন করছেন, তাদের মতে ডিজিটাল নোম্যাড জীবন যেমন স্বাধীনতায় ভরা, তেমনি আছে চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা আর একাকীত্ব। ইন্টারনেট খুঁজে হন্যে হয়ে ঘোরা, মাথার উপর ডেডলাইন, আবার এর মাঝেই নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলা, সবই নোম্যাডদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবুও আমাদের সমাজে এ জীবন নিয়ে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। চলুন, দেখে নেই সেসবের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত পাঁচটি ভুল ধারণা।

অনেকেরই মনে হয় ডিজিটাল নোম্যাড মানেই সারাক্ষণ ভ্রমণ, পার্টি আর বিনোদন। হ্যাঁ, তারা ভ্রমণ করেন ঠিকই, কিন্তু সেই ভ্রমণের ফাঁকেই চলে পূর্ণদস্তুর কাজ। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ল্যাপটপের সামনে, মিটিং আর ক্লায়েন্ট কল সামলাতে। মজা করার আগে বা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে কাজই থাকে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
যারা নোম্যাড হতে চান, তারা আগে নিজের শহরেই কাজ আর বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অনেকে মনে করেন এই জীবন শুরু করতে হলে অনেক টাকা-পয়সা লাগবে। আসলে ব্যাপারটা পুরোপুরি বাজেট ম্যানেজমেন্ট আর পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। সাশ্রয়ী দেশ বা শহর বেছে নিলে খরচ অনেকটাই কমে যায়। আবার ঘন ঘন জায়গা বদল না করে এক জায়গায় কিছুদিন থাকলেও খরচ কমে। তবে বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে খরচের হিসাব জেনে নেয়া যায়, যা নতুনদের জন্য বেশ সহায়ক।

অনেকে ভাবেন নোম্যাড মানে ভ্রমণ, তাই পোষা প্রাণী রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই কুকুর বা বিড়াল নিয়ে ভ্রমণ করেন। শুধু দরকার বাড়তি পরিকল্পনা এয়ারলাইনের নিয়ম জানা, পোষাপ্রাণীবান্ধব থাকার জায়গা খোঁজা, আর স্থানীয় ভেট খুঁজে রাখা। এক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে নিতে হবে এবং পেট গ্রুপ খুজে সেখান থেকে সাহায্য নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাধারণ ধারণা হলো, ডিজিটাল নোম্যাড মানেই হয় কেউ কোডার, নয়তো বড়সড় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। কিন্তু আসলে পেশা ভিন্ন হতে পারে যেমন–কনটেন্ট রাইটার, অনলাইন শিক্ষক, কাস্টমার সার্ভিস এক্সপার্ট, কোচ বা ছোট ই-কমার্স উদ্যোক্তাও হতে পারেন নোম্যাড। তবে শর্ত একটাই কাজটি করতে হবে অনলাইনে এবং যেকোনো জায়গা থেকেই কাজ করা হতে পারে।

অনেকে মনে করেন এ জীবন শুধু আরাম আর স্বাধীনতায় ভরা। বাস্তবে এটি যেমন স্বাধীনতা দেয়, তেমনি দায়িত্বও অনেক। সময় ম্যানেজমেন্ট, বাজেট নিয়ন্ত্রণ আর কাজের পরিকল্পনা, এসব সামলাতে পারলেই কেবল এই জীবন উপভোগ করা সম্ভব।
ডিজিটাল নোম্যাড জীবন মোটেও অবাস্তব কোনো কল্পনা নয়। এটি একাধারে স্বাধীনতা, দায়িত্ব আর সুযোগের এক নতুন দিগন্ত। যদি আপনি সঠিকভাবে কাজের পরিকল্পনা করতে পারেন, বাজেট ও সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হন এবং নিজেকে ধীরে ধীরে রিমোট কাজের উপযোগী করে তোলেন, তবে এই জীবন আপনার জন্যও সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, ডিজিটাল নোম্যাড জীবন মানে হলো স্বাধীনতা আর সম্ভাবনার মেলবন্ধন। ভুল ধারণা বাদ দিয়ে বাস্তব দিকগুলো বুঝতে পারলেই খুলে যাবে এক নতুন জীবনের দরজা।
সূত্র: এমএসএন
ছবি: পেকজেলসডটকম