
ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো ভিন্নধর্মী ঘুমের প্রতিযোগিতা। ‘হানগাং ন্যাপ কম্পিটিশন ২০২৬’ নামে পরিচিত এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে হান নদীর তীরবর্তী ইয়োয়িদো হানগাং পার্কে।


গত শনিবার, ২ মে বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় শতাধিক অংশগ্রহণকারী একত্রিত হন, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল কে সবচেয়ে ভালোভাবে ‘ঘুমাতে’ পারেন, তা প্রদর্শন করা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য যোগ ম্যাট, বিনব্যাগ এবং ক্যাম্পিং চেয়ারসহ আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের মধ্য থেকে প্রায় ১৭০ জনকে বাছাই করা হয় আবেদন ও ব্যক্তিগত গল্পের ভিত্তিতে। আয়োজকরা জানান, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে বিশ্রামের গুরুত্ব বোঝানো।


প্রতিযোগিতায় ছিল কিছু কঠোর নিয়ম। একবার প্রতিযোগিতা শুরু হলে কেউ যদি জেগে ওঠেন, দাঁড়ান, মোবাইল ব্যবহার করেন বা কোনো ধরনের শব্দ করে অন্যদের বিরক্ত করেন, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও এই বছরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পোশাকেও ছিল সৃজনশীলতা। কেউ এসেছেন রাজকীয় সাজে, কেউবা প্রাণীর পোশাকে।
২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা ও খণ্ডকালীন কাজের চাপে তিনি প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তাই নিজের ‘ন্যাপ স্কিল’ দেখাতে তিনি রাজকীয় পোশাকে অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ২৪ বছর বয়সী এক ইংরেজি শিক্ষিকা ইনসমনিয়ায় ভোগার কথা জানিয়ে বলেন, গভীর ঘুমের জন্য পরিচিত কোয়ালার পোশাক পরে তিনি এসেছেন হয়তো এতে অল্প বিস্তর হলেও ঘুম আসতে পারে। প্রতিযোগিতার বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের হৃদস্পন্দনও পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা গভীর ও শান্ত ঘুমের একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যা সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বড় সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম যেখানে মানুষ অতিরিক্ত কাজের চাপে ভুগছে এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি রয়েছে।
সিউল সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘রিডিং অ্যাট হানগাং পার্ক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আয়োজন চালু করা হয়েছে, যা নাগরিকদের প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে এবং নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করতে উৎসাহিত করে। ব্যতিক্রমধর্মী এই ‘ঘুম প্রতিযোগিতা’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে এবং নগরজীবনের ক্লান্ত মানুষের জন্য এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
তথ্য : ইয়াহু নিউজ, সিএনএন, রয়টার্স
ছবি: ইন্সটাগ্রাম