আজ প্রমিস ডে: কীভাবে বুঝবেন কেউ আপনাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

প্রতিশ্রুতি মানুষের সম্পর্কের সবচেয়ে কোমল অথচ শক্তিশালী ভিত্তিগুলোর একটি। প্রেম, বন্ধুত্ব, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক—সব জায়গাতেই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসের সেতু গড়ে তোলে। কিন্তু সব প্রতিশ্রুতি সমান নয়। কেউ কেউ মুহূর্তের আবেগে, সুবিধার জন্য কিংবা কাউকে ধরে রাখার কৌশল হিসেবে এমন প্রতিশ্রুতি দেন, যা পূরণ করার ইচ্ছা বা প্রস্তুতি তাদের থাকে না। ফলে জন্ম নেয় হতাশা, অবিশ্বাস এবং সম্পর্কের ভাঙন। প্রশ্ন হলো—কীভাবে বুঝবেন কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে? রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত আর পেশাগত জীবনে কেউ না কেউ আমাদেরকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রমিস ডে-তে জেনে নিন কীভাবে বুঝবেন কেউ ভাঙার জন্যই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কিনা।

প্রতিশ্রুতি মানুষের সম্পর্কের সবচেয়ে কোমল অথচ শক্তিশালী ভিত্তিগুলোর একটি
প্রতিশ্রুতি মানুষের সম্পর্কের সবচেয়ে কোমল অথচ শক্তিশালী ভিত্তিগুলোর একটি
ছবি: প্রতীকী ও এআই দিয়ে তৈরি

১. কথায় একশ, কাজে শূন্য

মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো কথার সঙ্গে কাজের অমিল। তিনি হয়তো বলছেন, “আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব,” কিন্তু প্রয়োজনের সময় তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। বড় বড় পরিকল্পনা করেন, কিন্তু ছোট একটি পদক্ষেপও নেন না। যারা সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি দেন, তারা কথার চেয়ে কাজ দিয়ে তা প্রমাণ করেন।

বিজ্ঞাপন

২. অস্পষ্ট ও ঘোরানো ভাষা

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সাধারণত খুব অস্পষ্ট হয়। যেমন—“একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে”, “দেখবে আমি বদলে যাব”, “সময় হলেই করব।” কিন্তু কবে, কীভাবে, কোন পরিকল্পনায়—এই প্রশ্নগুলোর নির্দিষ্ট উত্তর থাকে না। আন্তরিক মানুষ সাধারণত স্পষ্ট সময়সীমা ও পরিকল্পনার কথা বলেন।

অনেকে প্রতিশ্রুতিকে নাটকীয় করে তোলেন
অনেকে প্রতিশ্রুতিকে নাটকীয় করে তোলেন

৩. অতিরিক্ত আবেগ ও  নাটকীয়তা

অনেকে প্রতিশ্রুতিকে নাটকীয় করে তোলেন—চোখে পানি, শপথ, কসম—সবই থাকে, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ থাকে না। অতিরিক্ত আবেগ অনেক সময় সত্যিকারের দায়বদ্ধতার অভাব ঢাকার উপায় হতে পারে। কারণ দায়িত্বশীল মানুষ নাটক নয়, ধারাবাহিকতা দেখান।

বিজ্ঞাপন

৪. অতীতের পুনরাবৃত্তি

তিনি কি আগেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভেঙেছেন? যদি বারবার একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং প্রতিবারই তা অপূর্ণ থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। মানুষের ভুল হতে পারে, কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ইঙ্গিত দেয় যে সমস্যা ইচ্ছায়, সক্ষমতায় নয়।

তিনি কি আগেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভেঙেছেন?
তিনি কি আগেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভেঙেছেন?

৫. দায় এড়ানোর প্রবণতা

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানুষ ব্যর্থ হলে দায় নিজের ওপর নেন না। বরং পরিস্থিতি, অন্য মানুষ বা ভাগ্যকে দোষারোপ করেন। “আমি তো চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বুঝতে পারনি”, “সময় খারাপ ছিল”—এই ধরনের অজুহাত তাদের মুখে শোনা যায়। আন্তরিক মানুষ ব্যর্থ হলেও দায়িত্ব স্বীকার করেন।

৬. দ্রুত প্রতিশ্রুতি, ধীর বাস্তবতা

সম্পর্কের শুরুতেই যদি কেউ অল্প পরিচয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। আজীবন একসঙ্গে থাকা, জীবন বদলে দেওয়ার কথা—তবে সতর্ক থাকা ভালো। সত্যিকারের দায়বদ্ধতা সময় নিয়ে গড়ে ওঠে। খুব দ্রুত দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনেক সময় আবেগের ঢেউ, যার স্থায়িত্ব কম।

যদি দেখেন কথার চেয়ে অজুহাত বেশি, আবেগের চেয়ে দায়িত্ব কম তাহলে সন্দিহান হোন
যদি দেখেন কথার চেয়ে অজুহাত বেশি, আবেগের চেয়ে দায়িত্ব কম তাহলে সন্দিহান হোন

৭. আপনার অনুভূতিকে উপেক্ষা করা

আপনি যদি প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আর তিনি তা গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আপনাকেই সন্দেহপ্রবণ বলে দোষারোপ করেন, তবে এটি একটি রেড ফ্ল্যাগ। সুস্থ সম্পর্কে প্রশ্নের জায়গা থাকে; সেখানে স্বচ্ছতা ও ব্যাখ্যা দিতে ভয় থাকে না।

তবে মনে রাখতে হবে, সব অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি মিথ্যা নয়। জীবন অনিশ্চিত; অনেক সময় সত্যিই পরিস্থিতি বদলে যায়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু যদি দেখেন কথার চেয়ে অজুহাত বেশি, আবেগের চেয়ে দায়িত্ব কম, তবে বুঝতে হবে, প্রতিশ্রুতি হয়তো কেবল শব্দেই সীমাবদ্ধ।

প্রতিশ্রুতি যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় উপায় হলো সময়।
প্রতিশ্রুতি যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় উপায় হলো সময়।
ছবি: প্রতীকী ও এআই দিয়ে তৈরি

শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় উপায় হলো সময়। সময়ই বলে দেয় কে সত্যিই পাশে থাকে, আর কে কেবল শব্দের ফুলঝুরি ছড়ায়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে অন্ধ বিশ্বাস নয়, সচেতন বিশ্বাস দরকার। কারণ প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ, যখন তা হৃদয়ের সঙ্গে কর্মেও প্রতিফলিত হয়।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড

ছবি: এআই ও পেকজেলস

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৪
বিজ্ঞাপন