মোহাম্মদপুরের খাল পরিষ্কার করে তুমুল আলোচনায় প্রজেক্ট ‘খালে হবে’
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ‘মোরশেদ মিশু’স ইলাস্ট্রেশন’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে একটা ঘোষণা আসে। সেখানে লেখা ছিল, ‘২৮-২৯ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেড ১-৪–এর খালে জমে থাকা ময়লা, আশপাশের ময়লা পরিষ্কারসহ ব্রিজ এবং খালের সাইড রং করে রঙিন করার চেষ্টা করব।...আপনারা যারা আগ্রহী, আপনাদের সকলের উপস্থিতি এবং সহযোগিতা কাম্য।’ ঘোষণার সঙ্গে কমেন্টের লিংকে দেওয়া ছিল একটি গুগল ফরম, যেখানে ছিল ভলান্টিয়ার হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান। ঘোষণাটি করেন সুপরিচিত কার্টুনিস্ট ও অভিনেতা মোরশেদ মিশু। ফেসবুক পেজটি তাঁরই। এই প্রজেক্টের তিনি একটি নামও দেন, প্রজেক্ট ‘খালে হবে’।

প্রজেক্ট ‘খালে হবে’ এই খাল পরিষ্কারের আয়োজন সফল করতে রেজিস্ট্রেশন করেন ৯৩ জন ভলান্টিয়ার। পেইন্টিং পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয় এশিয়ান পেইন্টস, অ্যাওয়ারনেস ৩৬০। এ প্রজেক্টে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার আসিফ আহমেদ সরকার এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেন।

বিজ্ঞাপন

কী ছিল সেই প্রজেক্ট ‘খালে হবে’–এর ফলাফল? নিচের ছবিতেই তা দেখা যাচ্ছে সুস্পষ্ট।
ঢাকা আমাদের শহর। কিন্তু এ শহরকে আমরা যে কতটা কম ভালোবাসি, তা জানা গেল মোরশেদ মিশুর কাছ থেকে। বিভিন্ন সূত্রে তাঁর দেওয়া সাক্ষাৎকার ও মতামতের বয়ান থেকে জানা যায়, ‘টাকাপয়সা আর সোনাদানা ছাড়া সব ধরনের জিনিস খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে পেয়েছি। বাসার তোশক, অকেজো কমোড, হেলমেট, ব্যাগ, ভাঙা সোফা—এসব জিনিসও মানুষ খালে ফেলেছে।’

মোরশেদ মিশু বলেন, এত জিনিস যে খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে পাওয়া যাবে, তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। ব্রিজের নিচে ময়লা জমে ছিল স্তূপাকারে। সেগুলো টেনে সরানো যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের ডুবুরিদের সহায়তায় ব্রিজের নিচের পাইপের আশপাশের ময়লা পরিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দুঃখজনক বিষয় হলো, শুধু ময়লা পরিষ্কার করতেই যে মোরশেদ মিশু এবং তাঁর দল বেগ পেয়েছে, তা নয়, ভলান্টিয়ারদের খাবার, পানীয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তাঁদের অর্থেরও প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাহায্য চাইলেও ব্যানার ও লোগো ব্যবহার করা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তাঁরা কোনো সাহায্য পাননি। শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন পরিচিতরা। মোরশেদ মিশুর ফেসবুকে দেওয়া হিসাব থেকে জানা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে মোট খরচ হয় ৮৬ হাজার ৫৩০ টাকা।

শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রজেক্ট ‘খাল হবে’ সফল হয়েছে। এ সাফল্যের গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। ইচ্ছা থাকলেই আমরা বদলে দিতে পারি নিজের চারপাশ—মোরশেদ মিশু এবং এই প্রজেক্টে কাজ করা প্রত্যেকে যেন প্রমাণ করে ছাড়লেন এ কথা। সেই সঙ্গে তাঁরা আমাদের মনে করিয়ে দিলেন, এ শহরকে ভালো রাখার দায়িত্বটাও আমাদের।

তথ্যসূত্রঃ ফেসবুক

ছবিঃ মোরশেদ মিশু ও ঋষি কাব্য

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ১১: ৩৩
বিজ্ঞাপন