নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস: নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর অধিকার
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন জটিলতার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ৮৩০ জন নারী মারা যান। এর ৯৯ শতাংশ মৃত্যুই অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে হয়ে থাকে। মাতৃত্বকে নিরাপদ করতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১৯৮৭ সালে কেনিয়ার নাইরোবি কনফারেন্সে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন শুরু হয়। এরপর থেকে নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার কমানো ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৮ মে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করান, মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচান।’

মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে হলে এ খাতে দক্ষ জনবল বড়ানো জরুরি
মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে হলে এ খাতে দক্ষ জনবল বড়ানো জরুরি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, একজন মা গর্ভাবস্থা, প্রসব অবস্থা ও প্রসব পরবর্তী ৪২ দিনের মধ্যে মারা গেলে ওই ঘটনাকে ‘মাতৃমৃত্যু’ হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ, ২০ বছরের নিচে সন্তান নেওয়া। এ ছাড়া প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি, বিলম্বিত প্রসব ও ঠিকমতো প্রসব করতে না পারায় ইনফেকশন। অন্যদিকে কম ওজন নিয়ে জন্ম, প্রি-ম্যাচিউর, জন্মের পরপর শ্বাস না নেওয়া ও নাভিতে ইনফেকশনের কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে হলে এ খাতে দক্ষ জনবল বড়ানো জরুরি। মাতৃমৃত্যু কমাতে গর্ভকালীন অবস্থায় ও প্রসব–পরবর্তী অবস্থায় নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো নেওয়া অপরিহার্য—

প্রথম সন্তান প্রসবের পর তিন বছর বিরতি নেওয়া
প্রথম সন্তান প্রসবের পর তিন বছর বিরতি নেওয়া

* গর্ভবতী মায়েদের ও প্রসব–পরবর্তী মায়েদের ভারী জিনিস বহন না করা।
* নিয়মিত টিকা নেওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার বা পোস্ট–নেটাল কেয়ার নেওয়া।
* গর্ভকালীন সময়ে সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
* ⁠প্রথম সন্তান প্রসবের পর তিন বছর বিরতি নেওয়া।
* ⁠বাড়িতে প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ।

বিজ্ঞাপন

নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে হলে সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়াতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটাকে ৭০ শতাংশে নিয়ে যাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই জরুরি।

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের সুবাদে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে
নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের সুবাদে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের সুবাদে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নারী ও শিশু মৃত্যুহার অনেকাংশেই কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, ২০১০ সালে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু ছিল ১৯৪ জন। এক দশকে তা কমে ১৬৫ জনে নেমেছে। তবে গ্রামে এখনো এই হার ১৯১ জন ও শহরে ১২৩ জন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ সরকারি এবং ৮৫ শতাংশই বেসরকারি হাসপাতালে হয়ে থাকে।

গর্ভকালীন যত্নের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা
গর্ভকালীন যত্নের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা

পরিশেষে এটাই বলা যায় যে এই গর্ভকালীন যত্নের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং গর্ভজনিত কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা। এককথায় মায়ের স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি না করে পরিবার, সমাজ ও দেশকে একটি সুস্থ শিশু উপহার দেওয়া।

লেখক: মেডিকেল অফিসার, জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল

ছবি: পেকজেলসডটকম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ০৮: ০৬
বিজ্ঞাপন