বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা আছে কার
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ইতিহাস জুড়ে রাজা-মহারাজাদের সাথে সোনার ছিল গভীর সম্পর্ক। শুধু সম্পদের জন্য নয়, সোনা ছিল ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক। আধুনিক যুগে সোনা শুধু সম্পদের প্রতীক নয়—অনিশ্চিত সময়ে সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিরাপদ আশ্রয়। তাই সোনাকে বলা হয় অনিশ্চিত সময়ের রাজা। সোনা এখন জনপ্রিয় এক বিনিয়োগ, যা বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, কোটিপতি এবং সাধারণ মানুষ—সবাইই ব্যাপকভাবে জমাচ্ছে আজকাল বিশ্বব্যপী। আসলে বছরের পর বছর ধরেই সোনা আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পণ্যে পরিণত হয়েছে।

গয়না হিসেবে কেনাবেচা হলেও সোনা আসলে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পণ্য
গয়না হিসেবে কেনাবেচা হলেও সোনা আসলে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পণ্য

কারা সবচেয়ে বেশি সোনা কিনে রাখে

যদি সোনা এত মূল্যবান সম্পদ হয়, তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সোনার মালিক কারাা? তবে তার আগে দেখা যাক, পৃথিবীতে কত সোনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোনা সম্পদের প্রতীক, আর আমেরিকা এ বিষয়ে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। ডিসেম্বর ২০২৪ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে ৮,১৩৪ টন সোনা—যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। এরপরেই রয়েছে জার্মানি। বেশ পিছিয়ে রয়েছে চীন ও ভারত, যাদের রিজার্ভে যথাক্রমে ২,২৮০ টন ও ৮৭৬ টন সোনা রয়েছে। তবে এগুলো সরকারি সোনা রিজার্ভ। চলুন দেখি ব্যক্তিগত সোনা-মালিকানার কী অবস্থা। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত সোনার মালিকানার তালিকা কিন্তু বেশ লম্বা।

সোনা সম্পদের প্রতীক বলে বিবেচিত বিশ্বজুড়ে
সোনা সম্পদের প্রতীক বলে বিবেচিত বিশ্বজুড়ে

পরিবারভিত্তিক সোন-মালিকানার চিত্র

বিশ্বের মাঝে ভারতীয় পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি সোনা সঞ্চয়কারী হিসেবে ধরা হয়। ধারণা করা হয়, সব মিলিয়ে ভারতীয় পরিবারের কাছে প্রায় ২৪ হাজার টন সোনা আছে—যা প্রায় বিশ্বের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট মজুতের সমান। সে তুলনায়, চীনা পরিবারের কাছে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন সোনা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সোনার মালিক

বিশ্বের শীর্ষ সোনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে  আছেন জন পলসন, এরিক স্প্রট, জর্জ সো, রে ডালিওসহ আরও অনেকে। বিখ্যাত এই ধনী ব্যক্তিরা সবাই কৌশলগতভাবে সোনায় বিনিয়োগ করেন তাঁদের সম্পদ বৈচিত্র্য, উন্নতি ও স্থায়ীত্ব আনার জন্য। সৌদি রাজপরিবারও বিপুল পরিমাণ সোনার মালিক হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৫ হাজার সদস্যের হাউস অফ সৌদ পরিবারটির মোট সম্পদ প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে সোনার বিনিয়োগ একটি বড় পরিমাণে রয়েছে।

সৌদি রাজপরিবার সোনায় বিনিয়োগ করায় বিশ্বাসী
সৌদি রাজপরিবার সোনায় বিনিয়োগ করায় বিশ্বাসী
জন পলসন সোনার ওপরই নির্ভর করেন
জন পলসন সোনার ওপরই নির্ভর করেন

ব্যক্তিগত পর্যায়ে  সবচেয়ে বেশি সোনার মালিকদের কথা বলতে গেলে জন পলসন ও এরিক স্প্রটের নাম অবশ্যই আসে। জন পলসন একজন মার্কিন বিলিয়নিয়ার হেজ ফান্ড ম্যানেজার। তিনি ডলারের ভবিষ্যৎ দুর্বল হবে বলে বিশ্বাস করেন, তাই সোনার ওপরই নির্ভর করেন। মজার ব্যাপার হলো, পলসন একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাকে ট্রেজারি সেক্রেটারির পদের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল। ট্রাম্প শুল্ক নীতি ঘোষণা করার পর থেকেই সোনার দাম বাড়তে শুরু করে, যা পলসনের পক্ষে গেছে।

এরিক স্প্রট কানাডার বিলিয়নিয়ার, যার সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তিনি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সোনা ও রূপা বিনিয়োগকারী। তার মোট বিনিয়োগের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দুই ধাতুতে বিনিয়োগ করা।

পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সোনা ও রূপা বিনিয়োগকারী এরিক স্প্রট
পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সোনা ও রূপা বিনিয়োগকারী এরিক স্প্রট
জর্জ সোরোস প্রচুর সোনার মালিক হিসেবে পরিচিত
জর্জ সোরোস প্রচুর সোনার মালিক হিসেবে পরিচিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ সোরোস ও রে ডালিও প্রচুর সোনার মালিক হিসেবে পরিচিত। জর্জ সোরোস বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগ দক্ষতার জন্য বিখ্যাত, তিনি এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট ও ব্যারিক গোল্ড কর্প ইটিএ–এ ২৬৪ মিলিয়ন ডলার করে বিনিয়োগ করেছেন।

রে ডালিও সবসময় সোনা জমানোর পক্ষপাতী
রে ডালিও সবসময় সোনা জমানোর পক্ষপাতী

রে ডালিও মার্কিন কোম্পানি ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটস-এর প্রতিষ্ঠাতা। এই বিলিয়নিয়ার সবসময় সোনা জমানোর পক্ষপাতী এবং বাড়তি ঋণ-ঝুঁকির কারণে দেনা-সম্পদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

বিলিয়নিয়ার ইনভেস্টর স্ট্যানলি ড্রাকেনমিলারকেও বড় সোনা বিনিয়োগকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। তাঁর সম্পদ প্রায় ৬.৯ বিলিয়ন ডলার, এবং তিনি ব্যাপকভাবে সোনা। বিশেষ করে গোল্ড মাইনিং ইটিএফ-এ বিনিয়োগ করেন।

স্ট্যানলি ড্রাকেনমিলারকেও বড় সোনা বিনিয়োগকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না
স্ট্যানলি ড্রাকেনমিলারকেও বড় সোনা বিনিয়োগকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না

আরেকজন বিখ্যাত হাওয়াইয়ান আমেরিকান বিনিয়োগকারী রয়েছেন যিনি সত্যিকারের সোনা কেনার পরামর্শ দেন। তাঁর নাম রবার্ট কিয়োসাকি। তিনি “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” বইয়ের লেখক। তিনি কাগুজে শেয়ার নয়, বরং আসল সোনায় বিনিয়োগের পক্ষে।

রবার্ট কিয়োসাকি কাগুজে শেয়ার নয়, বরং আসল সোনায় বিনিয়োগের পক্ষে
রবার্ট কিয়োসাকি কাগুজে শেয়ার নয়, বরং আসল সোনায় বিনিয়োগের পক্ষে

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কোটিপতিরা সোনা কেনেন মূলত তাদের সম্পদ বৈচিত্র্য আনার জন্য এবং মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সোনা মানে নিরাপত্তার অনুভূতি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম গত ১ বছরে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে সোনা সব সম্পদকেই ছাড়িয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, অতিরিক্ত বিনিয়োগ না করে, আপনার মোট বিনিয়োগের প্রায় ১০ শতাংশ সোনায় রাখা ভালো বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ছবি: ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও উইকিপিডিয়া

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৬: ০২
বিজ্ঞাপন