
বর্তমান সময়ে নির্মাণশিল্পের উন্নয়নের জন্য টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থপতি ও নির্মাতাদের পাশাপাশি এখন বাড়ির মালিকরাও শুধু দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই ডিজাইন চাইছেন না, তাঁরা এমন উপকরণ চাইছেন যা পরিবেশবান্ধবও বটে। এই পরিবর্তন সামনে রেখে শীর্ষস্থানীয় এক তুর্কি কোম্পানি ‘কালে’ তৈরি করছে অভিনব সব টাইলস। তারা তাদের উদ্ভাবিত পণ্য এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণশিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
কালে এবারই প্রথম বাংলাদেশে পরিচয় করিয়েছে ৫ ফুট বাই ১০ ফুট সাইজের ‘পোর্সেলিন স্ল্যাব’–এর সঙ্গে।
যেকোনো পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব বিষয় নিশ্চিত করার জন্য সার্টিফিকেট একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম। শুধু আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করে না, বরং ব্যবহারকারীরা যে নিরাপদ ও টেকসই পণ্য ব্যবহার করছে তার নিশ্চয়তাও দেয়।

এখানেই কালে বাজারের অন্য টাইলস ব্র্যান্ডগুলো থেকে নিজেদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছে। তা ছাড়া তারা পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই পণ্য উৎপাদনে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা আরো বেশি করে প্রমাণিত হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পরিবেশবান্ধব সার্টিফিকেটে। এসব সার্টিফিকেশন তাদের পণ্যকে আরও মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেশন সম্পর্কে জানানো যেতে পারে:
যেসব কোম্পানি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করে, তাদের লিড সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়। কালের এই সার্টিফায়েড টাইলস ব্যবহারের মাধ্যমে স্থপতিরা তাঁদের প্রকল্পের পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসের পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনের মান বৃদ্ধিও করতে পারেন।

এই সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করে যে কালে তাদের উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য কম বর্জ্য, কম শক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
কালের পণ্য টাইলসের অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় কম রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা টাইলসের ভেতরের বায়ুর মান সমুন্নত রাখে। আর এই গ্রিনগার্ড সার্টিফিকেশন এটিই নিশ্চিত করে।

কালের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা মান পূরণ করে।
আমরা সাধারণত অফিস বা বাসাবাড়ির জন্য টাইলস কেনার সময় যেটা বিশেষ করে দেখি, সেটা হলো ওই টাইলস দেয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই কি না, কিংবা ডিজাইনটা কেমন দেখাচ্ছে, রং ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে যাবে কি না? এসব প্রশ্ন অবশ্যই টাইলস কেনার আগে আমাদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। কিন্তু এই টাইলস পরিবেশবান্ধব দেখে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে এটা হয়তো সুন্দর হবে না।

কালের টাইলস আর পোর্সেলিন স্ল্যাবের ডিজাইন শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং এগুলো তৈরি করার জন্য পরিবেশ সুরক্ষার ওপরেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। যেমন:
ডাবল গ্লেজড পোর্সেলিন: এই পদ্ধতি টাইলসের টেকসই ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; ফলে টাইলস দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এবং খুব দ্রুত পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে না। যেহেতু টাইলস বদলানোর প্রয়োজন না হওয়ায় পরিবেশের ওপর চাপও কমে।
রেকটিফায়েড টাইলস: কালের রেকটিফায়েড টাইলস সঠিক কোণ অনুযায়ী কাটার জন্য তা যেকোনো ধরনের মেঝে বা দেয়ালে ফিট হয়ে যায়। এটি গ্রাউট ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং মোল্ডের বৃদ্ধি প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর ফলে টাইলসের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও কমে যায়।
৩০ বছর রঙের গ্যারান্টি: আমাদের মনে একটা ভয় থাকে যে সময়ের সঙ্গে টাইলসের রং হয়তো ফিকে হয়ে আসবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আসলে এটাই হয়। কিন্তু কালের বৈশিষ্ট্য হলো, এর টাইলসের রং দীর্ঘদিন একই রকম উজ্জ্বল থাকে।
কম কাঁচামাল, শক্তি ও পানি ব্যবহার: কালের উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ সিরামিক টাইলসের তুলনায় ৫৭% কম কাঁচামাল, ৪৭% কম প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২০% কম পানি ব্যবহার করে করা হয়।
এসব ছাড়াও কালে পোর্সেলিন স্ল্যাবের অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কালের ফেসবুক পেজে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে টেকসই নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার অনেকটাই সীমিত। স্থানীয় এবং আমদানি করা অধিকাংশ টাইলস আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে না। তবে কালে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। কারণ, তাদের পরিবেশবান্ধব সার্টিফিকেট ও টেকসই উৎপাদনপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের নির্মাণশিল্প জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

কালের টাইলস ব্যবহারের ফলে শুধু স্থপতিদের বানানো ভবন বা প্রকল্পের মানই বাড়বে না, বরং তাঁরা পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁদের ব্যবহৃত পণ্য পরিবেশবান্ধব, দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমানসম্পন্ন হওয়ার দরুন নির্মাণশিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তনেরও সূচনা করবে।
তা ছাড়া বর্তমান সময়ে স্থপতিরা শুধু একটি প্রকল্পের নকশা এবং নির্মাণকেই গুরুত্ব দেন না, তাঁরা পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং টেকসই উপকরণের ব্যবহারও তাঁদের পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। এ ক্ষেত্রে কালের পণ্য ব্যবহার করে স্থপতিরা তাঁদের প্রকল্পে একটি ‘গ্রিন’ স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারেন, যা তাঁদের পোর্টফোলিওকে এক নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে। কারণ, এই ধরনের প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে টেকসই নির্মাণের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ‘সার্টিফায়েড’ প্রকল্পের সংখ্যা বাড়বে, যা তাদের দক্ষতা এবং সৃমদ্ধ অভিজ্ঞতাকেই উপস্থাপন করবে।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবার দায়িত্ব টেকসই উপকরণ ব্যবহার করা। নির্মাণ উপকরণ হিসেবে টাইলস অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, টাইলস তৈরি করার জন্য কাঁচামাল উত্তোলন থেকে শুরু করে উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং পরিবহন পর্যন্ত এমন অনেক উপাদান ব্যবহার কিংবা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। কালের টাইলস ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার পাশপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ উপকরণের চাহিদা বাড়ছে এবং কালের মতো ব্র্যান্ডগুলো সেই চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তাদের টেকসই পণ্য এবং উদ্ভাবনী ডিজাইন শুধু নির্মাণশিল্পের মান উন্নত করছে না, বরং এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করছে।